বাগেরহাটে প্রভাব খাটিয়ে মাছের ঘের দখলের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটে জোরপূর্বক জমি ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলকৃত মাছের ঘের অবৈধভাবে দখল করে নেওয়ার অভিযোগে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক কৃষক। সোমবার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাগেরহাট সদর উপজেলার পার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো: ইশারাৎ খান। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন আতাইকাটি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি অজিয়ার রহমান।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ইশারাত খান জানান, প্রায় ১৯ বছর আগে তিনি এবং স্থানীয় হারুন শেখ যৌথভাবে পার-নোয়াপাড়া বিলে একটি বড় মাছের ঘের পরিচালনা করতেন। ওই ঘেরের ভেতরে অজিয়ার রহমানের ১ বিঘা জমি ছিল, যা তৎকালীন সময়ে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে হারুন শেখের কাছে বন্ধক রাখা হয়। পরবর্তীতে ইশারাৎ খান এককভাবে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ঘের করার সিদ্ধান্ত নিলে, তিনি নিজের আড়াই বিঘা জমির সাথে ওই বন্ধকী ১ বিঘা জমি ব্যবহারের জন্য হারুন শেখকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এরপর অজিয়ার রহমানের ভাই আকবর তরফদারের অনুরোধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আরও ১০ হাজার টাকা তাদের প্রদান করা হয়। তখন থেকে তিনি বৈধভাবে জমি ও মাছের ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে অজিয়ার রহমান জোরপূর্বক তার সেই সাড়ে ৩ বিঘা আয়তনের মাছের ঘেরটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে এই বিষয়টির সমাধানের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুলিশ ও আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিক শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অজিয়ার রহমান অধিকাংশ বৈঠকে উপস্থিত হননি। আর যে একটি বৈঠকে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন, সেখানে নিজের ১ বিঘা জমি ছাড়া বাকি আড়াই বিঘা জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এরপরও দলীয় ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুরো সাড়ে ৩ বিঘা মাছের ঘেরটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এর ফলে ভুক্তভোগী কৃষক দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী কৃষক ইশারাৎ খান আইন ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সাথে তিনি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে তার বৈধ দখল ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন।















