ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

অনলাইন মার্কেটিংয়ে সর্বস্বান্ত মানুষ

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নানা রকম চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন অনেকের চোখে পড়ে। অনেকেই সেই লোভনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতারিত হওয়ার প্রথম অপকৌশল। এরকম বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবহারকারীদের। এরপর লোভনীয় সব অফারের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ রয়েছে, লোভনীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্র। এদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে সাম্প্রতিক এক অভিযানে ৬০ হাজারের বেশি সিম, ডিভাইসসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, সিম বিপণন ব্যবস্থার কঠোরতা, জবাবদিহি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ সাইবার অপরাধ রোধ করা কোনো ক্রমেই সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজারে আইটেম শেয়ার কিনে মুনাফা করিয়ে দেয়ার প্রলোভনের বিজ্ঞাপন দেখে একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন তিনি। যতক্ষণে বুঝতে পারলেন এটি একটি প্রতারণা, ততক্ষণে খুইয়েছেন প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী বলেন, বললো ডিসকাউন্টে এত টাকা দিয়ে কিনবেন আর এত টাকা বিক্রি করতে পারবেন। আমি দেখলাম তারা যে ডিসকাউন্ট রেট দিচ্ছে তাতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মতো পার্থক্য থাকে। মানে মার্কেট রেটের চেয়ে তারা অনেক কমদামে দিচ্ছে। আমি আবার অনলাইনে দেখলাম যে, ডিসকাউন্ট রেটে এরকম শেয়ার কেনাবেচা হয় যেটা না কি ব্রক মার্কেট। আমি দেখি এরকম তো হয়ই, তাহলে করা যেতে পারে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৫০ হাজারে মতো সিম, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
এবিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারণাগুলো সাধারণ অর্থনৈতিক যে ক্রাইমগুলো হয়, মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য প্রথমে ম্যাসেজ পাঠায় যে আপনি এত টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি এত টাকা পাবেন। মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য মেসেজগুলো পাঠায়, সে মেসেজ পাঠাতে এ সিমগুলো ব্যবহার করে।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সিম বিক্রির অতিরিক্ত টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। মোবাইল সিম বিপণন প্রক্রিয়াকে কঠিন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘বিপণন বিভাগ যেগুলো সেলসে, অনেকটু উৎসাহ প্রদান করে। একটা সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন থাকলে যেন অনেক বড় আর্থিক এবং জেল-জরিমানা থাকে তাহলে এ জাতীয় অপরাধের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
তবে এবিষয়ে ভিন্নমত টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন এমটবের। তারা বলছেন, সিম বিপণন প্রক্রিয়া কঠিন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে এমন চিন্তা অবান্তর। অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। এমটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, কোনো পক্ষই এককভাবে যেকোনো ধরনের অপরাধ থেকে আসলে এ সমাজকে মুক্ত করতে পারবো না। এখানে সবারই সমভাবে অবগত হতে হবে যে, এটার আসলে খারাপ দিকগুলো কী। আমরা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে চাই এ প্রক্রিয়াটাকে আরও কতটা টাইট করা যায়।
সাইবার সিকিউরিটি ভেঞ্চারস নামক একটি গবেষণা সংস্থা বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গবেষণা করে থাকে। তাদের তথ্য বলছে, ১০ বছর আগেও যে ক্ষতির পরিমাণ ছিলো তিন লাখ কোটি ডলার, যা চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে। সেই তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অনলাইন মার্কেটিংয়ে সর্বস্বান্ত মানুষ

আপডেট সময় :

ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নানা রকম চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন অনেকের চোখে পড়ে। অনেকেই সেই লোভনীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় প্রতারিত হওয়ার প্রথম অপকৌশল। এরকম বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে একটি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যবহারকারীদের। এরপর লোভনীয় সব অফারের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ রয়েছে, লোভনীয় বিজ্ঞাপনের আড়ালে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্র। এদের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে সাম্প্রতিক এক অভিযানে ৬০ হাজারের বেশি সিম, ডিভাইসসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, সিম বিপণন ব্যবস্থার কঠোরতা, জবাবদিহি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ সাইবার অপরাধ রোধ করা কোনো ক্রমেই সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজারে আইটেম শেয়ার কিনে মুনাফা করিয়ে দেয়ার প্রলোভনের বিজ্ঞাপন দেখে একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন তিনি। যতক্ষণে বুঝতে পারলেন এটি একটি প্রতারণা, ততক্ষণে খুইয়েছেন প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী বলেন, বললো ডিসকাউন্টে এত টাকা দিয়ে কিনবেন আর এত টাকা বিক্রি করতে পারবেন। আমি দেখলাম তারা যে ডিসকাউন্ট রেট দিচ্ছে তাতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মতো পার্থক্য থাকে। মানে মার্কেট রেটের চেয়ে তারা অনেক কমদামে দিচ্ছে। আমি আবার অনলাইনে দেখলাম যে, ডিসকাউন্ট রেটে এরকম শেয়ার কেনাবেচা হয় যেটা না কি ব্রক মার্কেট। আমি দেখি এরকম তো হয়ই, তাহলে করা যেতে পারে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গত মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৫০ হাজারে মতো সিম, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসসহ প্রতারক চক্রের দুইজনকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
এবিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, প্রতারণাগুলো সাধারণ অর্থনৈতিক যে ক্রাইমগুলো হয়, মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য প্রথমে ম্যাসেজ পাঠায় যে আপনি এত টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি এত টাকা পাবেন। মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য মেসেজগুলো পাঠায়, সে মেসেজ পাঠাতে এ সিমগুলো ব্যবহার করে।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সিম বিক্রির অতিরিক্ত টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। মোবাইল সিম বিপণন প্রক্রিয়াকে কঠিন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইন সংশোধনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘বিপণন বিভাগ যেগুলো সেলসে, অনেকটু উৎসাহ প্রদান করে। একটা সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন থাকলে যেন অনেক বড় আর্থিক এবং জেল-জরিমানা থাকে তাহলে এ জাতীয় অপরাধের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
তবে এবিষয়ে ভিন্নমত টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন এমটবের। তারা বলছেন, সিম বিপণন প্রক্রিয়া কঠিন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে এমন চিন্তা অবান্তর। অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। এমটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, কোনো পক্ষই এককভাবে যেকোনো ধরনের অপরাধ থেকে আসলে এ সমাজকে মুক্ত করতে পারবো না। এখানে সবারই সমভাবে অবগত হতে হবে যে, এটার আসলে খারাপ দিকগুলো কী। আমরা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে চাই এ প্রক্রিয়াটাকে আরও কতটা টাইট করা যায়।
সাইবার সিকিউরিটি ভেঞ্চারস নামক একটি গবেষণা সংস্থা বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গবেষণা করে থাকে। তাদের তথ্য বলছে, ১০ বছর আগেও যে ক্ষতির পরিমাণ ছিলো তিন লাখ কোটি ডলার, যা চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে। সেই তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।