গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় বয়স্ক, বিধবা/স্বামী পরিত্যক্ত এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীদের তথ্য হালনাগাদ ও লাইভ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গলাচিপা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পৌরসভায় বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পান ৯০৮ জন, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পান ৭৯২ জন এবং প্রতিবন্ধী ভাতা পান ৪৭১ জন। সব মিলিয়ে ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭১ জন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভাতা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক ভাতা ভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির নামে ভাতা উত্তোলন, যোগ্যতা হারানোর পরও ভাতা গ্রহণ কিংবা অন্যান্য অনিয়ম চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে ভাতা প্রাপ্ত ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরও তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় তার নামে ভাতার অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত থাকে। একইভাবে স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পাওয়া কোনো নারী পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে পুনর্মিলিত হলেও অনেক সময় সেই তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না। এসব বিষয় যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রেও প্রকৃত সুবিধাভোগী নিশ্চিত করতে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। যেসব ব্যক্তি বর্তমানে আর ভাতার নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে নেই, তাদের পরিবর্তে নতুন যোগ্য ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ইউএনওর উদ্যোগে জেলে কার্ডধারীদের তালিকাও হালনাগাদ করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত জেলেদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে তালিকা পুনঃযাচাই করা হচ্ছে এবং অনিয়মের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত নাম পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, ভাতা ও জেলে সহায়তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হবেন। তাদের মতে, প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা আরও বাড়াবে।



















