ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

ঢাকায় জনদুর্ভোগ চরমে

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪ ২৬ বার পড়া হয়েছে

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আটকে আছে শত শত গাড়ি

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের একদফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অনড়। দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকাসহ সাড়া দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ শুরু করে। বিকাল নাগাদ রাজপথের অন্তত ২০টি স্থান তারা অবরুদ্ধ করেছেন। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা।

যানজটের নগরী ছিলো অনেকটা ফাঁকা। তবে, কর্মজীবী মনুষের দুর্ভোগ ছিলো চরমে। যানবাহন সংকটে পায়ে হেটে মনুষকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এমন কি পাঠাও মেটর সাইকেলের চলাচলও ছিলো সীমিত।

সকাল থেকেই মেট্রোতে ছিলো অস্বাভাবিক চাপ। অনেককে একাধিক মেট্রোতে ওঠার সুযোগ না পেয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে, পরবর্তী গাড়ির জন্য।

 

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে বুধবার (১০ জুলাই) তৃতীয় দিনের মতো বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর প্রভাবে ঢাকায় গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন সকাল থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বেশ কিছু রেললাইন অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্র বাড়ে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

মেরুল বাড্ডা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বসুন্ধরা শপিং মলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন রাশেদুল ইসলাম। রামপুরা পয়েন্ট থেকে হাতিরঝিল দিয়ে বোটে চড়ে আসতে পারলেও তেজগাঁও নেমে আর গাড়ি পাচ্ছিলেন না তারা। পরে তেজগাঁও থেকে পুরো রাস্তা হেঁটেই আসতে হয়েছে তাদের।

এক বছরের সন্তানকে নিয়ে শরীয়তপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসেন ঋতু আক্তার। সকাল সকাল গাড়ি ঢাকা পৌঁছালেও নেমে আরও সামনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ঋতু বলেন, অনেক কষ্ট করে সিএনজি, রিকশা নিয়ে এসেছি। বাংলামোটর এসে আর কোথাও যেতে পারছিলাম না। কোনও গাড়ি পাচ্ছি না, রাস্তা বন্ধ। উপায় না পেয়ে হাঁটতে হাঁটতে সোনারগাঁও পুলিশ বক্সে এসে দাঁড়াই। যাবো স্কয়ার হসপিটালে। সেখানে দুপুরে ডাক্তার দেখানোর কথা।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) স্নেহাশিস কুমার দাস সংবাদমধ্যমকে বলেন, প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় এর চাপ পড়েছে অলিগলিতে। এতে প্রতিটি মহল্লার অলিগলিতে যানবাহন আটকে আছে।

সড়কের পরিস্থিতির বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া এবং জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। মানুষ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কোটাবিরোধীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঢাকায় জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৬:২৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

 

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের একদফা দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অনড়। দাবি আদায়ে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকাসহ সাড়া দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ শুরু করে। বিকাল নাগাদ রাজপথের অন্তত ২০টি স্থান তারা অবরুদ্ধ করেছেন। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা।

যানজটের নগরী ছিলো অনেকটা ফাঁকা। তবে, কর্মজীবী মনুষের দুর্ভোগ ছিলো চরমে। যানবাহন সংকটে পায়ে হেটে মনুষকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এমন কি পাঠাও মেটর সাইকেলের চলাচলও ছিলো সীমিত।

সকাল থেকেই মেট্রোতে ছিলো অস্বাভাবিক চাপ। অনেককে একাধিক মেট্রোতে ওঠার সুযোগ না পেয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে, পরবর্তী গাড়ির জন্য।

 

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে বুধবার (১০ জুলাই) তৃতীয় দিনের মতো বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর প্রভাবে ঢাকায় গণপরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন সকাল থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ বেশ কিছু রেললাইন অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্র বাড়ে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

মেরুল বাড্ডা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বসুন্ধরা শপিং মলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছিলেন রাশেদুল ইসলাম। রামপুরা পয়েন্ট থেকে হাতিরঝিল দিয়ে বোটে চড়ে আসতে পারলেও তেজগাঁও নেমে আর গাড়ি পাচ্ছিলেন না তারা। পরে তেজগাঁও থেকে পুরো রাস্তা হেঁটেই আসতে হয়েছে তাদের।

এক বছরের সন্তানকে নিয়ে শরীয়তপুর থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় আসেন ঋতু আক্তার। সকাল সকাল গাড়ি ঢাকা পৌঁছালেও নেমে আরও সামনের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ঋতু বলেন, অনেক কষ্ট করে সিএনজি, রিকশা নিয়ে এসেছি। বাংলামোটর এসে আর কোথাও যেতে পারছিলাম না। কোনও গাড়ি পাচ্ছি না, রাস্তা বন্ধ। উপায় না পেয়ে হাঁটতে হাঁটতে সোনারগাঁও পুলিশ বক্সে এসে দাঁড়াই। যাবো স্কয়ার হসপিটালে। সেখানে দুপুরে ডাক্তার দেখানোর কথা।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) স্নেহাশিস কুমার দাস সংবাদমধ্যমকে বলেন, প্রধান প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় এর চাপ পড়েছে অলিগলিতে। এতে প্রতিটি মহল্লার অলিগলিতে যানবাহন আটকে আছে।

সড়কের পরিস্থিতির বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া এবং জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবরোধের বিষয়ে সকাল থেকে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। মানুষ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কেউ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কোটাবিরোধীরা।