শেরপুরের বারদুয়ারী হাটে রহস্যজনকভাবে পাকা দোকান নির্মাণ
দায় এড়াতে পৌরসভা ও প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন বারদুয়ারী হাটের একটি ফাঁকা জায়গায় রহস্যজনকভাবে পাকা দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে কারা এই নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ। বরং হাটটির দায়িত্ব নিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নমুখী বক্তব্য।
গতকাল রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বারদুয়ারী হাটের অভ্যন্তরে একটি খালি জায়গায় ইটের গাঁথুনির কাজ চলছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন ধরে প্রায় ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের জায়গাজুড়ে পাঁচটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাঁদের মজুরি পরিশোধ করছেন। তবে তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তাঁর দাবি, কাজটি পৌরসভার তত্ত্বাবধানেই হচ্ছে।
বারদুয়ারী হাটের দীর্ঘদিনের সবজি বিক্রেতা ফজর আলী বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি একই স্থানে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ তা ভেঙে দেয়। বর্তমানে সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসার দিনে ওই স্থানে অস্থায়ীভাবে ভোজ্য তেলের দোকান বসে। এখন কারা সেখানে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করছে, তা তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাটের মালিক জেলা প্রশাসক। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদারকি করেন। তবে পৌরসভা বারদুয়ারী হাটে কোনো নতুন দোকানঘর নির্মাণ করছে না।
অপরদিকে শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসন হাটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেছে। পৌরসভাই হাট ইজারা দেয় এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “কে বা কারা দোকানঘর নির্মাণ করছে, তা আমার জানা নেই। পৌরসভা এ কাজ করছে না এবং কাউকে কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে আগে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের কারণে স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আবার কীভাবে অনুমতি ছাড়াই পাকা দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু হলো এবং এর পেছনে কারা জড়িত—সেই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।




















