ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

নদীভাঙনের মুখে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম আশ্রয়ণ প্রকল্প: আতঙ্কে ৭৫ পরিবার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায়। ইছামতী নদীর শাখা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে তাদের বসতঘর এখন হুমকির মুখে। আর মাত্র কয়েক মিটার ভাঙলেই ৭৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন বাঁধ একাধারে ভেঙে চলছে। একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনেও আসেননি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরকাদীমের তিলার্দী চর এলাকায় ইছামতী নদীর একটি শাখা নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৫টি ঘরে প্রায় চার বছর ধরে অসহায়, দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারগুলো বসবাস করছে। তবে ঘর নির্মাণের পর সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করায় এখন পুরো প্রকল্পই ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পুরো কাজ সম্পন্ন না করেই চলে যায়। অর্ধেক বাঁধ নির্মাণ করে বাকি অংশে শুধু জিও ব্যাগ ফেলে রাখা হয়। ফলে গত দুই বছর ধরে ধীরে ধীরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইছামতীর এই শাখা নদী দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে গরুবাহী নৌকার চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব নৌযানের ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ভেঙে পড়ছে। এছাড়া নদীর ওপারে থাকা কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওইপাড়ে মাটি কাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের তীরেই বেশি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত বাঁধ ধসে পড়ছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আসিফ বলেন, “আমরা নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের মধ্যে কোনো ঈদের আনন্দ নেই। কালবৈশাখী বা বর্ষার এক রাতেই হয়তো আমাদের ঘর নদীতে চলে যাবে।”
আরেক বাসিন্দা আজমল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিসি অফিসে, পানি উন্নয়ন বোর্ডে অনেক আগেই আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কেউ একদিনের জন্যও দেখতে আসেনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আবার বাস্তুহারা হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক মানুষের শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নদীভাঙনের মুখে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম আশ্রয়ণ প্রকল্প: আতঙ্কে ৭৫ পরিবার

আপডেট সময় :

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদীমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায়। ইছামতী নদীর শাখা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে তাদের বসতঘর এখন হুমকির মুখে। আর মাত্র কয়েক মিটার ভাঙলেই ৭৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন বাঁধ একাধারে ভেঙে চলছে। একাধিকবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনেও আসেননি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরকাদীমের তিলার্দী চর এলাকায় ইছামতী নদীর একটি শাখা নদীর তীরে সরকারি খাস জমিতে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৫টি ঘরে প্রায় চার বছর ধরে অসহায়, দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারগুলো বসবাস করছে। তবে ঘর নির্মাণের পর সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না করায় এখন পুরো প্রকল্পই ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পুরো কাজ সম্পন্ন না করেই চলে যায়। অর্ধেক বাঁধ নির্মাণ করে বাকি অংশে শুধু জিও ব্যাগ ফেলে রাখা হয়। ফলে গত দুই বছর ধরে ধীরে ধীরে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে এই ভাঙন আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইছামতীর এই শাখা নদী দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে গরুবাহী নৌকার চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব নৌযানের ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ভেঙে পড়ছে। এছাড়া নদীর ওপারে থাকা কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওইপাড়ে মাটি কাটার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের তীরেই বেশি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত বাঁধ ধসে পড়ছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আসিফ বলেন, “আমরা নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের মধ্যে কোনো ঈদের আনন্দ নেই। কালবৈশাখী বা বর্ষার এক রাতেই হয়তো আমাদের ঘর নদীতে চলে যাবে।”
আরেক বাসিন্দা আজমল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিসি অফিসে, পানি উন্নয়ন বোর্ডে অনেক আগেই আবেদন দিয়েছি। কিন্তু কেউ একদিনের জন্যও দেখতে আসেনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আবার বাস্তুহারা হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীতীর সংরক্ষণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক মানুষের শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।