বন্ধের পথে দেশের বৃহৎ সার কারখানাগুলো
- আপডেট সময় : ৩১৮ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস সংকটে একে একে সার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশে বানিজ্যিক ভাবে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। শুধু তাই নয়, গ্যাসের অপ্রতুলতায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাসাবাড়ির গৃহবধুরা। জ্বলছে না চুলা। অন্য দিকে সিএনজি পেট্রোল পাম্পগুলোতে নেই প্রেসার বা গ্যাস সরবরাহের চাপ। এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তর সার উৎপাদন কারখানাগুলো। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুটি সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানাগুলো হলো চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। গ্যাস সংকটে পর্যায় ক্রমে দেশের অন্যান্য সার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পাশাপাশি নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সম্প্রতি এ সকল সার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শত শত শ্রমিক কর্মচারী। গুঞ্জন রয়েছে, ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। যার কারনে গ্যাস তেল ও জ্বালানী সংকট আরো প্রকট হতে যাচ্ছে। গাড়িতে পর্যাপ্ত জ্বালানী দিচ্ছে না পেট্রল পাম্পগুলো। এনিয়ে গাড়ি চালকদের মধ্যে অহরহ বাক বিতন্ডা গড়িয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদেও মতে, ইরান ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়ে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানী সংকট আরো বাড়ছে।
ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে,গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের দুটি বৃহৎ সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ বিকেল থেকে কারখানা দুটির উৎপাদন স্থগিত করা হয়। কারখানাগুলো হলো চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সিইউএফএল স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ৬ মাস বন্ধ থাকার পর কারখানাটি সম্প্রতি চালু হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা। এ মুহুর্তে সেটি বন্ধ হয়ে গেলো।
অন্যদিকে কাফকোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। তবে কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি সাময়িক, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালু করে বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
অপরদিকে গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ও পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত ৬ মার্চ সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কারখানাটির প্রকল্প পরিচালক সাইদুর রহমান।
এবিষয়ে পরিচালক বলেন,২ দিন আগে থেকেই ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাসহ দেশে আরও কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এ সারকারখানায় দৈনিক ২ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কারখানা সূত্রে জানা যায়, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ সারকারখানার সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাস নির্ভর একটি প্রক্রিয়া।
সূত্র আরও জানা যায়, সার কারখানাটি গ্যাস সংকটে বন্ধ হওয়ার পর গুদামে ৫ লাখ ২৫ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। কারখানাটিতে নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১ থেকে ৭২ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া ৫২ থেকে ৫৩ পিএসআই গ্যাস পাওয়া গেলেও উৎপাদন চালিয়ে রাখা যায়।





















