ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সুবর্ণচরে কাঁচা সড়ক পাকাকরণের দাবি

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগ্যা এলাকায় সুইজগেট বাজার থেকে মুজিবনগর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক ৪২ বছরেও পাকাকরণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে দক্ষিণ বাগ্যা গ্রামের সুইজগেট বাজার-মুজিবনগর বেড়িবাঁধ সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সহস্রাধিক গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন মাঝি, মো. খোকন মাঝি, বাদশা আলম, বিবি ফাতেমা, ফারজানা আক্তার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৮২ সালে সড়কটি নির্মিত হলেও দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও তা আজও কাঁচাই রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য সড়ক পাকাকরণ হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ কাঁদা ও পানিতে তলিয়ে যায় এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে সড়কজুড়ে ধুলাবালির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। ধুলাবালির প্রভাবে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে- যেমন অগ্নিকাণ্ড বা রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা, পানি ও ধুলাবালির মধ্য দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই সড়কটি এলাকাবাসীর একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিনের অবহেলায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, সড়কটির জন্য নতুন আইডি খোলা হয়েছে এবং বরাদ্দের জন্য পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুবর্ণচরে কাঁচা সড়ক পাকাকরণের দাবি

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগ্যা এলাকায় সুইজগেট বাজার থেকে মুজিবনগর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক ৪২ বছরেও পাকাকরণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল রোববার (৭ জুন) দুপুরে দক্ষিণ বাগ্যা গ্রামের সুইজগেট বাজার-মুজিবনগর বেড়িবাঁধ সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সহস্রাধিক গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন মাঝি, মো. খোকন মাঝি, বাদশা আলম, বিবি ফাতেমা, ফারজানা আক্তার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৮২ সালে সড়কটি নির্মিত হলেও দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও তা আজও কাঁচাই রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য সড়ক পাকাকরণ হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ কাঁদা ও পানিতে তলিয়ে যায় এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চলাফেরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, শুষ্ক মৌসুমে সড়কজুড়ে ধুলাবালির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে। ধুলাবালির প্রভাবে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জরুরি পরিস্থিতিতে- যেমন অগ্নিকাণ্ড বা রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দ্রুত সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন কাদা, পানি ও ধুলাবালির মধ্য দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এই সড়কটি এলাকাবাসীর একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিনের অবহেলায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, সড়কটির জন্য নতুন আইডি খোলা হয়েছে এবং বরাদ্দের জন্য পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হবে।