১ বছরকে ৩ বছর বানিয়ে তহসীলদারের ভুয়া রিপোর্ট! বাগেরহাটে চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় : ৫৪ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা ও অনৈতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বনগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসীলদার) মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে জালিয়াতিপূর্ণ ও চরম পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনের ভেতরেই তারিখ ও সময়ের এমন কিছু গাণিতিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত অসঙ্গতি উঠে এসেছে, যা নিয়ে খোদ আদালত পাড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আদালতের পূর্বের কাগজ পত্র সূত্রে জানা গেছে, নালিশী জমির মালিকানা ও স্বত্ব নিয়ে এবং ভূমিদস্যু সাখাওয়াতের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিজের কষ্টার্জিত ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) আদালতে মিস ৬৯২/২৫ (মোড়েলগঞ্জ) নম্বরে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন ১ম পক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবির। আদালত নালিশী জমির প্রকৃত অবস্থা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মোড়েলগঞ্জের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তহসীলদার মোঃ জাকির হোসেন চরম কালক্ষেপণ করে এবং দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে গত ০৭ জুন ২০২৬ তারিখে আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১ বছর ৫ মাসকে কোন জাদুবলে ৩ বছর বানিয়ে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের ২য় প্যারায় তহসীলদার নিজেই উল্লেখ করেছেন— ২য় পক্ষ (সাখাওয়াত সিকদার) নামের এক ব্যক্তি মোঃ ফরিদুল ইসলামের নিকট থেকে গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি লিজ বা বন্দোবস্ত নেন।অথচ, রিপোর্টের ঠিক পরের প্যারায় (৩য় প্যারা) দখল পর্যালোচনা করতে গিয়ে তহসীলদার লিখেছেন, সাখাওয়াত সিকদার নাকি “গত তিন বছর যাবৎ” সেখানে ধান ও মাছ চাষের মাধ্যমে জমি ভোগ দখলে আছেন।
বাস্তবতা হলো, লিজ নেওয়ার তারিখ (২০/১২/২০২৪) থেকে তহসীলদারের তদন্তের তারিখ (০৭/০৬/২০২৬) পর্যন্ত মোট সময়কাল মাত্র ১ বছর ৫ মাস ১৭ দিন। লিজ নেওয়ারও এক বছর আগে থেকে সাখাওয়াত সিকদার কীভাবে সেখানে চাষাবাদ করছেন— প্রতিবেদনের এমন স্ববিরোধী তথ্যই প্রমাণ করে যে, মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে টেবিল-টক বা কাল্পনিক এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নালিশী জমির ১ম পক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবিরের পক্ষে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট রায় (মামলা নং- ৬৩৩/১৯) এবং বৈধ নামজারি (মিউটেশন) রয়েছে। তহসীলদার সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আদালতের সেই ডিক্রি ও বৈধ কাগজপত্রকে পাত্তাই দেননি। উল্টো ২য় পক্ষের একটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভিত্তিহীন লিজের কাগজকে বড় করে দেখিয়ে রিপোর্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।এতে করে সে আদালতের ডিক্রি ও অবমূল্যায়ন করেছেন। কর্মকর্তার মুখে ‘আসামির’ সাফাই মানেই একজন নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তার চেয়ে ২য় পক্ষের “আইনজীবীর মতো বেশি প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি লিখেছেন— “আগম বৃষ্টির কারণে ধান পানিতে ডুবে গেছে… তাই কাটা সম্ভব হয়নি।” নালিশী জমির প্রকৃত অবস্থা আড়াল করে ২য় পক্ষের পক্ষে এক ধরণের সাফাই বা সহানুভূতি আদায়ের এই চেষ্টা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার চরম পরিপন্থী।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ১ম পক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”তহসীলদার সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এই মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছেন। ১ বছর ৫ মাসকে তিনি কোন জাদুবলে ৩ বছর বানালেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা বিজ্ঞ এডিএম (ADM) আদালতে এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি (নারাজি) দাখিল করব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা আরডিসি-কে দিয়ে পুনঃতদন্তের আবেদন জানাব। একই সাথে জালিয়াতিপূর্ণ রিপোর্টের কপি সংযুক্ত করে মোড়েলগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (DC) বরাবর উক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফসিল জমির ধান না কেটে নষ্ট করে ফেলানো এবং অসদাচরণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তহসীলদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তহসিল অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, তাছাড়া তার মুঠো ফোনে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি । স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমি অফিসের এই ধরণের প্রকাশ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা উঠে যাবে।




















