ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবক নিহত
- আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গভীর রাতে একটি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে মো. রাফি মন্ডল (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে চারটার দিকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত রাফি মন্ডল বগুড়ার ধুনটের নাটাবাড়ি গ্রামের বুলু মন্ডলের ছেলে। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শেরপুর উপজেলার চন্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করে রেখেছিলেন।
গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করার চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইসটি মালিকদের মুঠোফোনে কল পাঠায়। সংকেত পেয়ে রমজান আলী ও আব্দুল জলিল চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের ডাক শুনে আশপাশের দুই থেকে তিনটি গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘিরে দুই যুবককে আটক করে।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে রাফি ও জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে রাফি মন্ডলের মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
শেরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন। মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”


















