ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

লালমনিরহাটে ১৩ কোটির সেতুতে ফাটল, এলজিইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: auto;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 38;

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত একটি সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর রাতেই এর একটি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন বোর্ডেরহাট এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে। এর ফলস্বরূপ, চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের বাকি অবকাঠামোগুলোর গুণগত মান কতটা নিরাপদ? সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার এবং চারটি সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সড়ক সংস্কার ও সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বোর্ডেরহাট এলাকার সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং গত শনিবার বিকেলে সেটি যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোলাম মাওলা।
বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, সেতু ঢালাইয়ের সময় দরপত্র অনুযায়ী রড, সিমেন্ট, বালু ব্যবহার না করায় সাটার খোলার পর বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ফোঁপা দেখা দেয়। ঠিকাদার গত মঙ্গলবার তড়িঘড়ি করে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গর্ত ও ফোঁপা স্থান ঢেকে দেন। এরপর শনিবার অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি ভরাট করে তড়িঘড়ি করে সেতুটি যান চলাচলে খুলে দিলে, রাতেই সেতুতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। তিনি নিম্নমানের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডির থানা প্রকৌশলীকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সড়ক ও সেতুর বিষয়ে যা জানার, এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “মূল সেতুতে কোনো ফাটল দেখা দেয়নি। সেতুর প্রোটেকশন স্ট্রাকচারের একটি অংশে সামান্য ফাটল হয়েছে। মাটি ভরাটের চাপের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ঠিকাদারকে তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজন হলে সেতু ও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। পুরো প্রকল্পটি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লালমনিরহাটে ১৩ কোটির সেতুতে ফাটল, এলজিইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় :

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত একটি সেতু জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর রাতেই এর একটি অংশে দৃশ্যমান ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন বোর্ডেরহাট এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেছে। এর ফলস্বরূপ, চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের বাকি অবকাঠামোগুলোর গুণগত মান কতটা নিরাপদ? সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, সে বিষয়টিও এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯ হাজার ৩০০ মিটার সড়ক সংস্কার এবং চারটি সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। সড়ক সংস্কার ও সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বোর্ডেরহাট এলাকার সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয় এবং গত শনিবার বিকেলে সেটি যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোলাম মাওলা।
বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, সেতু ঢালাইয়ের সময় দরপত্র অনুযায়ী রড, সিমেন্ট, বালু ব্যবহার না করায় সাটার খোলার পর বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও ফোঁপা দেখা দেয়। ঠিকাদার গত মঙ্গলবার তড়িঘড়ি করে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে গর্ত ও ফোঁপা স্থান ঢেকে দেন। এরপর শনিবার অ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি ভরাট করে তড়িঘড়ি করে সেতুটি যান চলাচলে খুলে দিলে, রাতেই সেতুতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। তিনি নিম্নমানের কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডির থানা প্রকৌশলীকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার গোলাম মাওলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সড়ক ও সেতুর বিষয়ে যা জানার, এলজিইডির প্রকৌশলীর কাছ থেকে জেনে নিন।” এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “মূল সেতুতে কোনো ফাটল দেখা দেয়নি। সেতুর প্রোটেকশন স্ট্রাকচারের একটি অংশে সামান্য ফাটল হয়েছে। মাটি ভরাটের চাপের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ঠিকাদারকে তা মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজন হলে সেতু ও সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। পুরো প্রকল্পটি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”