ডিমলায় ডাকাতির ঘটনায় থানায় অভিযোগ
- আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীর ডিমলায় এক ভুট্টা ও কীটনাশক ব্যবসায়ীকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ২২ লাখ টাকা, স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং চেকবই লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া-জলঢাকা সড়কের দক্ষিণ সোনাখুলি স্লুইচগেট এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামিয়ার রহমান (৪৫) পার্শ্ববর্তী জলঢাকা উপজেলা থেকে ব্যবসায়িক পাওনার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চাপানী হাটে নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে দক্ষিণ সোনাখুলি স্লুইচগেট এলাকায় পৌঁছালে ৮ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তার গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতরা প্রথমে তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে নগদ ২২ লাখ টাকা, ১০০ টাকা মূল্যমানের পাঁচটি স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, জলঢাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবের দুটি স্বাক্ষরিত চেকপাতাসহ চেকবই ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় জামিয়ার রহমানকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি উপজেলার পশ্চিম ছাতুনামা গ্রামের মৃত আজিমুদ্দিনের ছেলে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডাকাত দলের তিন সদস্যকে তিনি ঘটনাস্থলে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা হলেন— ছাতুনামা গ্রামের মোকলেছার রহমানের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৪০), আলমগীর হোসেন (৩৫) এবং ফরিদুল ইসলামের ছেলে সাগর (২০)। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় খবর পেয়ে ওই রাতেই নীলফামারী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহসিন আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে ভুক্তভোগী জামিয়ার রহমান গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উল্লেখিত তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে এ ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কে পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।




















