ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চিনি আমদানির রেকর্ড

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মাত্র ৫ ঘণ্টা স্থায়ী প্রজ্ঞাপন, চিনির বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকা লোপাট

বর্তমানে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী

বছরে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন

 

ডলার সংকট থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে বুকিং রেট কম থাকায় পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ চিনি আমদানি করে মিল মালিকরা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৬ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা মূল্যের ২ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন চিনি।

চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার একটি কেজি প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২২ ফেব্রুয়ারি। রমজানকে সামনে রেখে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

৫ ঘন্টা পর প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পরই মিল মালিকরা প্রতিকেজি চিনিতে অন্তত ৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে চিনির বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মিল মালিকদের সিন্ডিকেট। এর দিন তিনেক পর কেজিতে ১ টাকা কমিয়ে ১৩৪ টাকা নির্ধারণ করে।
অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রায় সোয়া দুই লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাইকারি পর্যায়ে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩২ টাকা। কিন্তু এদিন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও বাজারে সাধারণ চিনির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। রাত ১০টায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের আগেই প্রতিকেজি চিনির দাম পৌঁছে যায় ১৩৬ টাকায়।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেশে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াকে চক্রান্ত বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আলতাফ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মুহাম্মদ আলতাফ এ গাফ্ফার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আসলে এই সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়নি। বর্তমানে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিল মালিকদের যোগসাজশের অভিযোগ তোলে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন সাহা। দুই তিনদিনের মাথায় যদি চিনির দাম কমে, তাহলে বুঝতে এ সিদ্ধান্তটি পরিকল্পিত ছিল।

কাজেই বাজারে চিনির সংকট না হওয়ার আশা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন,
আমাদের কাছে চিনি আমদানির যে বিল অব এন্ট্রিগুলো পড়ছে বা জাহাজে চিনি আমদানির যে খবর আমরা পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে না রমজান মাসে চিনির কোনো সংকট হতে পারে।

বছরে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চিনি আমদানির রেকর্ড

আপডেট সময় :

 

মাত্র ৫ ঘণ্টা স্থায়ী প্রজ্ঞাপন, চিনির বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকা লোপাট

বর্তমানে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী

বছরে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন

 

ডলার সংকট থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে বুকিং রেট কম থাকায় পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ চিনি আমদানি করে মিল মালিকরা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৬ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা মূল্যের ২ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন চিনি।

চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার একটি কেজি প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২২ ফেব্রুয়ারি। রমজানকে সামনে রেখে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

৫ ঘন্টা পর প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পরই মিল মালিকরা প্রতিকেজি চিনিতে অন্তত ৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে চিনির বাজার থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মিল মালিকদের সিন্ডিকেট। এর দিন তিনেক পর কেজিতে ১ টাকা কমিয়ে ১৩৪ টাকা নির্ধারণ করে।
অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রায় সোয়া দুই লাখ মেট্রিক টন চিনি আমদানি হয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাইকারি পর্যায়ে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১৩২ টাকা। কিন্তু এদিন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও বাজারে সাধারণ চিনির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। রাত ১০টায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের আগেই প্রতিকেজি চিনির দাম পৌঁছে যায় ১৩৬ টাকায়।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেশে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াকে চক্রান্ত বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের মেসার্স আলতাফ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মুহাম্মদ আলতাফ এ গাফ্ফার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আসলে এই সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়নি। বর্তমানে চিনির আন্তর্জাতিক বাজার নিম্নমুখী।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিল মালিকদের যোগসাজশের অভিযোগ তোলে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন সাহা। দুই তিনদিনের মাথায় যদি চিনির দাম কমে, তাহলে বুঝতে এ সিদ্ধান্তটি পরিকল্পিত ছিল।

কাজেই বাজারে চিনির সংকট না হওয়ার আশা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপকমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন,
আমাদের কাছে চিনি আমদানির যে বিল অব এন্ট্রিগুলো পড়ছে বা জাহাজে চিনি আমদানির যে খবর আমরা পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে না রমজান মাসে চিনির কোনো সংকট হতে পারে।

বছরে বাংলাদেশে ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রমজান মাসেই চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন।