সুপার হাসপাতালে দুর্ধষ চুরি
বহিস্কৃতদের খুঁজছে গোয়েন্দারা
- আপডেট সময় : ২৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের স্বনামধন্য সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনায় প্রকৌশলীসহ আরও ৪ জন কর্মকর্তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হচ্ছেন, উপ পরিচালক মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী এরশাদুল হক। এরা সকলেই সুপার হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ারিং ষাখার কর্মকর্তা। এর আগে ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সুপার হাসপাতালের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী কম্পিউটার অপারেটর আবদুল্লাহ আল মামুন সরকার এবং সহকারী পরিচালক শেখ মামুনুর রশীদকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পাশাপাশি এদুজনকে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এনিয়ে সুপার হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনায় ৬ জনকে তাদের চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের ভিতরে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সরকারী একাধিক সংস্থার সদস্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এঘটনার পর থেকে হাসপাতালে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তা ছাড়া ঘটনায় জড়িত পিজি হাসপাতাল ও সুপার হাসপাতাল কেন্দ্রীক ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মি ও চিহ্নিত চাদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দালাল গা ঢাকা দিয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে দুর্ধর্ষ পুকুর চুরির ঘটনায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বহিস্কৃত নেতাকর্মীদের গোয়েন্দারা খুজছে। গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ আল মামুন সরকার ও মামুনুর রশিদকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খুজে পেয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদেরকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। এদিকে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ও বরখাস্তের ঘটনায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং পিজি হাসপাতালে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতাল প্রশাসনিক শাখা এবং করিডোরসহ সর্বস্থানে নজরদারি করছে। অবস্থা বেগতিক দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দলীয় চাদাবাজ, টেন্ডারবাজ, তদ্বিরবাজ ও কতিপয় কর্মচারী আত্মগোপনে চলে গেছে।
অপরদিকে হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় কোরিয়ান হুন্দাই কোম্পানীর পক্ষ থেকে মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে সুপার হাসপাতালের পরিচালক বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠির উপর ভিত্তি করে সুপার হাসপাতালের পরিচালক এবং ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সকল সদস্যদেও নিয়ে জরুরী বৈঠক করেছেন। সে বৈঠকে হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের প্রকৌশলীকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপ পরিচালক মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী এরশাদুল হককে বরখাস্ত করা হয়। এরা সকলেই সুপার হাসপাতালের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার কর্মকর্তা। এর আগে ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সুপার হাসপাতালের প্রকৌশল বিভাগের সহকারী কম্পিউটার অপারেটর আবদুল্লাহ আল মামুন সরকার এবং সহকারী পরিচালক শেখ মামুনুর রশীদকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের পাশাপাশি এদুজনকে শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এবিষয়ে ওই হাসপাতালের কর্মচারী ক্যান্টিনের ম্যানেজার শরিফ উদ্দিন জানান, এই চোর চক্রটি দিনরাত হাসপাতালে থেকে সকল প্রকারের অনৈতিক কাজ করছে। পাশাপাশি ক্যান্টিনের সামনের করিডোরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হাসপাতালের তদ্বিরবাজ, চাদাবাজ ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা বসে জন্মদিন পালন করে। পাশাপাশি সালিশী বিচার করে থাকে। এছাড়া এখানে জন্মদিন পালনের মাধ্যমে হৈ হুল্লোর মারামরিও করে থাকে। এরফলে হাসপাতালের সাধারন কেবিন ও ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন রোগির মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় অভিযোগ রয়েছে, বেপরোয়া চাদাবাজির কারনে হাই কমান্ড শাহবাগ এলাকার থানা ও ওয়ার্ডের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বহিরাগত মামুন, খোকন, ইকবালসহ কমিটির সিংহভাগ নেতাকে বহিস্কার করেছে। তারপরও তাদেও চাদাবাজি বন্ধ হয়নি। বরং আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হাসপাতাল ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী নুর ইসলাম, মকবুল, রাজু, খায়রুল, লাবু, রাসেদ,। এছাড়া হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেনী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা মেহেদী মামুন লিটন হাসপাতালের টেন্ডার বানিজ্য, চাদাবাজি, তদ্বিরবাজিতে জড়িত।তাদের বেপরোয়া অনৈতিক কাজে অতিষ্ট হাসপাতাল প্রশাসন।
পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনায় জড়িত অভিযোগে হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর ও প্রকৌশলীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২২ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন হাসপাতালের কম্পিউটার অপারেটর মো. মামুন, প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ এবং মাসুম বিল্লাহ।
গত ২০ এপ্রিল গভীর রাতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বেইজমেন্ট থেকে চুরির ঘটনা ঘটে। একটি চক্র হাসপাতালের নির্মাণকাজের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ছয়টি পিকআপ ভ্যানে করে এসব সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়। গভীর রাতে হাসপাতালের নিরাপত্তা বলয় ডিঙিয়ে কার্টনে ভর্তি সরঞ্জাম পিকআপে তোলা হয়। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, লুটপাটের একটি ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, মালামাল ভর্তি একটি পিকআপের চালক বলছেন এসব সরঞ্জাম গুলশান কাঁচাবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ চুরির ঘটনার পর বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকৌশলীসহ ২ কর্মচারী ও একজন পেশাদার চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।



















