ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের

এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

এক সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

গর্জনিয়া-বাইশারীর আর্তনাদরি
  • আপডেট সময় : ১২১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র একটি সেতুর অভাবে আজও উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে দুই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লাখো মানুষের জীবনে যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট গর্জই খাল।
প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়দের দাবি, উত্তর বড়বিল-দক্ষিণ বাইশারী সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। সহজ হবে যোগাযোগ, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের, আর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গর্জই খালের দুই তীরে বসবাসরত মানুষের চোখে-মুখে একটাই প্রশ্ন—“আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে একটি সেতুর জন্য?”
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে এক বেদনাময় ইতিহাস। তাদের ভাষ্যমতে, ১৯৮৭-৮৮ সালে তৎকালীন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হাকিমের প্রচেষ্টায় দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। পরিবর্তিত হয়েছে সরকার, হয়েছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি; কিন্তু এই জনপদের মানুষের ভাগ্যে আর জোটেনি একটি নতুন সেতু।
বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। একটি সেতু নির্মিত হলে দুই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছালেও গর্জনিয়া ও বাইশারীর এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এখনো রয়ে গেছে অবহেলার অন্ধকারে। অথচ একটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে সামান্য অর্থ, যার সুফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম।
তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি—উত্তর বড়বিলের ছোট গর্জই খালের ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, বহু বছরের বঞ্চনা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একদিন এই সেতুই হয়ে উঠবে দুই জেলার লাখো মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এস.এম. হুমায়ুন কবির, কক্সবাজার

এক সেতুই বদলে দিতে পারে লাখো মানুষের জীবন

আপডেট সময় :

মাত্র একটি সেতুর অভাবে আজও উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে দুই জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের লাখো মানুষের জীবনে যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ছোট গর্জই খাল।
প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে, শিক্ষার উদ্দেশ্যে কিংবা জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের কষ্ট যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয়দের দাবি, উত্তর বড়বিল-দক্ষিণ বাইশারী সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এবং গর্জনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। সহজ হবে যোগাযোগ, প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের, আর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট গর্জই খালের দুই তীরে বসবাসরত মানুষের চোখে-মুখে একটাই প্রশ্ন—“আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে একটি সেতুর জন্য?”
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে এক বেদনাময় ইতিহাস। তাদের ভাষ্যমতে, ১৯৮৭-৮৮ সালে তৎকালীন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হাকিমের প্রচেষ্টায় দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ধসে পড়ে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় চার দশক। পরিবর্তিত হয়েছে সরকার, হয়েছে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি; কিন্তু এই জনপদের মানুষের ভাগ্যে আর জোটেনি একটি নতুন সেতু।
বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ গুনতে হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “একটি সেতু শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। একটি সেতু নির্মিত হলে দুই জেলার মানুষের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি হবে, সৃষ্টি হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছালেও গর্জনিয়া ও বাইশারীর এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এখনো রয়ে গেছে অবহেলার অন্ধকারে। অথচ একটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে সামান্য অর্থ, যার সুফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম।
তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি—উত্তর বড়বিলের ছোট গর্জই খালের ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, বহু বছরের বঞ্চনা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একদিন এই সেতুই হয়ে উঠবে দুই জেলার লাখো মানুষের স্বপ্নপূরণের প্রতীক।