ভরা যৌবনে ভাটা খনন হলেও মেলেনি সুবিধা
কুষ্টিয়ার ৮টি নদনদী দখলসহ অস্তিত্ব সংকটে
- আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে ভুগছে কুষ্টিয়ার ৮টি নদ-নদী। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এগুলো এখন বিলীনের পথে। বরা যৌবনে ভাটা। পরিণত হয়েছে মরা খালে। প্রভাবশালীরা নদীর বুকে পিলার দিয়ে দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরসহ পাকা স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ফেলা হচ্ছে কলকারখানার বর্জ্য। কোথাও ড্রেনের সংযোগ-মলমূত্র মিশছে নদীতে। দৌলতপুর থেকে শুরু করে খোকসা উপজেলার মাঝপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃত পদ্মা নদী। এর প্রধান শাখা গড়াই নদ প্রায় ৫০ কিলোমিটার। গড়াই নদের শাখা কালী নদী ছেঁউড়িয়া থেকে ৩৫, সাগরখালী নদী ভেড়ামারা থেকে ১৫ এবং হিসনা নদী ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এক যুগ আগেও এসব নদনদীর ভরা যৌবন ছিল। এখন মরা খাল। দৌলতপুরের মধ্য দিয়ে গেছে পদ্মা থেকে উৎপন্ন মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদী। নদী দুটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। বেশির ভাগই দখলদারদের দখলে। বর্ষায় পানি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হয় মরা খালে। কোথাও হয় তামাক ও ধান চাষ। ভেড়ামারা উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে চন্দনা নদী। পদ্মা থেকে উৎপন্ন এই নদীর অস্তিত্ব¡ এখন চোখে পড়ে না। বেশির ভাগ জায়গা চলে গেছে প্রভাবশালীদের কবজায়। মিরপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে সাগরখালী নদী। এটি এখন অনেকটাই মৃত। কয়েক বছর আগে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করে সচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সুফল মেলেনি। দখলের পাশাপাশি নদীর দীর্ঘ এলাকা পানিশূন্য। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে কুমার নদ। গড়াইয়ের এই শাখাটি বিলীনের পথে। বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ঝাউদিয়া ও বৈদ্যনাথপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় বড় অংশে করা হয়েছে মার্কেট। কুমারখালীর ডাকুয়া ও কালী নদী শুকিয়ে এখন মরা খাল। খোকসা উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সিরাজপুর হাওর নদ। গড়াইয়ের অন্যতম এ শাখাটি শুকিয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। নদীর দুই অংশে দুটি কালভার্ট ও স্লুইস গেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। নদী হারায় তার স্বাভাবিক অবস্থা।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলায় নদ-নদী ও খালের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৩ হাজার দখলদার রয়েছে। ছয়টি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন পরিদর্শন করে এ তালিকা তৈরি করেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাওয়া দখলদারদের তালিকায় রয়েছে পদ্মা ও গড়াই নদী এবং কয়েকটি বিল। এর বাইরেও দখলে রয়েছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের ছোটবড় অনেক খাল। সবচেয়ে বেশি দখলদার ভেড়ামারার হিসনা নদীতে। সেখানে পাকা দালানও করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় হিসনা নদীতে বড় বড় ট্রলার চলত। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের গত কয়েক বছর আগেকার তালিকা অনুযায়ী, পদ্মা, গড়াই ও সেচ প্রকল্পের ছোটবড় খাল দখল করে আছে অন্তত ২ হাজার ৯২১ দখলদার। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ জানান, পূর্বের তালিকার চেয়ে বর্তমানে দখলদারের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। উচ্ছেদ করতে হলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, লোকবলসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ও প্রয়োজন। গত অর্থবছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দসহ অনুমোদনের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অদ্যাবধি অনুমোদন মেলেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী রশিদুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই দখলদারদের উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















