ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে ভাসছে সিলেট

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

স্থানীয়ভাবে টানা বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানিতে ভাসছে সিলেট-সুনামগঞ্জ। প্রতিটি নদীর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার কুল ছাপিয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে পানি। সিলেট নগরীর অধিকাংশ বাড়িঘর এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে।

ঈদের দিন রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের জানায়, সব কটি উপজেলায় মোট ৫৩৮টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মঙ্গলবার (১৮ জুন) জানায়, এখনও পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা থেকে ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সিলেট পয়েন্টে পানি।

কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার, সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নদীর সারিগোয়াইন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে ঢলে সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ঈদের দিন (সোমবার- ১৭ জুন) দুটি নদীর পানি ২টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে থাকলেও আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে ৪টি নদীর পানি বিপদসীমার ৬ পয়েন্টে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার (১৬ জুন) রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে সিলেটে জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত এবং মহানগরের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসনের তরফে ঈদের দিন বানভাসি মানুষের মাঝে কোরবানির পশুর মাংস, শুকনো খাবার, সেলাইন ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। এর ২০ দিন বন্যাকবলিত মানুষগুলো ফের দ্বিতীয় দফায় বানভাসি।

গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সকল উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বানরভাসির তালিকায়। বানের পানি পুরোপুরি নামার আগেই শনিবার (১৫ জুন) ফের বানভাসি সিলেট।

জেলা প্রশাসন রোববার (১৬ জুন) রাতে জানিয়েছিলো, সিলেট জেলার ১৩টির মধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। সোমবার (ঈদের দিন) ভোররাত থেকে সিলেটে ভারীবর্ষণ শুরু হয়। সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে ঢল।

এ কারণে সোমবার সকাল নাগাদ সব কটি উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়। পাশাপাশি সিলেট মহানগরের অধিকাংশ এলাকা হয় প্লাবিত হয়।

ঈদের দিন দুপুর নাগাদ বৃষ্টি থামলে মহানগরের পানি নামতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের ভারী বর্ষষ মুরু হলে আজ (মঙ্গলবার ১৮ জুন) সকাল থেকে ফের মহানগরের পানি বাড়তে শুরু করে। তাতে নতুন করে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তুলিয়ে গেছে।

মহানগরের সব নিচু এলাকা পানিতে সয়লাব। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা সমান পানি। যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

মহানগরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট-তাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে।

গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুইদিন সিলেটে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের।

ভারতের চেরাপুঞ্জিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ৩৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে মেঘালয়ের নিম্নাঞ্চল বাংলাদেশের সিলেটের দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি।

বানভাসি সুনামগঞ্জের দুর্ভোগ

পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জ জেলার সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। বর্ষণ ভারতের পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঈদ আনন্দ। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সুরমা নদী তীরবর্তী সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।

শহরের অনেক রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসি মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তাতে বন্যা পরিস্থিতি অবণতি হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্লাবিত সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সীমান্তের ওপারে মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী দিয়ে নেমে আসায় ফুঁসে ওঠছে সুরমা ও কুশিয়ারা। দোয়ারা বাজারের লক্ষ্মীপুরের খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধ ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রাম ও সড়ক প্লাবিত এবং প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বানভাসি।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আবারও ছাতকের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবেশ করছে। এই ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে ভাসছে সিলেট

আপডেট সময় :

 

স্থানীয়ভাবে টানা বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানিতে ভাসছে সিলেট-সুনামগঞ্জ। প্রতিটি নদীর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার কুল ছাপিয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে পানি। সিলেট নগরীর অধিকাংশ বাড়িঘর এরই মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে।

ঈদের দিন রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের জানায়, সব কটি উপজেলায় মোট ৫৩৮টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মঙ্গলবার (১৮ জুন) জানায়, এখনও পর্যন্ত সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা থেকে ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বিপদ সীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, সিলেট পয়েন্টে পানি।

কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৭৯ সেন্টিমিটার, সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নদীর সারিগোয়াইন পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে ঢলে সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ঈদের দিন (সোমবার- ১৭ জুন) দুটি নদীর পানি ২টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে থাকলেও আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে ৪টি নদীর পানি বিপদসীমার ৬ পয়েন্টে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রোববার (১৬ জুন) রাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে সিলেটে জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত এবং মহানগরের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসনের তরফে ঈদের দিন বানভাসি মানুষের মাঝে কোরবানির পশুর মাংস, শুকনো খাবার, সেলাইন ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। এর ২০ দিন বন্যাকবলিত মানুষগুলো ফের দ্বিতীয় দফায় বানভাসি।

গত ২৭ মে সিলেটে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে জেলার সকল উপজেলার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বানরভাসির তালিকায়। বানের পানি পুরোপুরি নামার আগেই শনিবার (১৫ জুন) ফের বানভাসি সিলেট।

জেলা প্রশাসন রোববার (১৬ জুন) রাতে জানিয়েছিলো, সিলেট জেলার ১৩টির মধ্যে ১০টি উপজেলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। সোমবার (ঈদের দিন) ভোররাত থেকে সিলেটে ভারীবর্ষণ শুরু হয়। সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে ঢল।

এ কারণে সোমবার সকাল নাগাদ সব কটি উপজেলায় বন্যা কবলিত হয়। পাশাপাশি সিলেট মহানগরের অধিকাংশ এলাকা হয় প্লাবিত হয়।

ঈদের দিন দুপুর নাগাদ বৃষ্টি থামলে মহানগরের পানি নামতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে ফের ভারী বর্ষষ মুরু হলে আজ (মঙ্গলবার ১৮ জুন) সকাল থেকে ফের মহানগরের পানি বাড়তে শুরু করে। তাতে নতুন করে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তুলিয়ে গেছে।

মহানগরের সব নিচু এলাকা পানিতে সয়লাব। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা সমান পানি। যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

মহানগরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট-তাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর রোডসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে।

গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৪৪ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুইদিন সিলেটে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের।

ভারতের চেরাপুঞ্জিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার ৬টা পর্যন্ত ৩৯৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে মেঘালয়ের নিম্নাঞ্চল বাংলাদেশের সিলেটের দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি।

বানভাসি সুনামগঞ্জের দুর্ভোগ

পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জ জেলার সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে। বর্ষণ ভারতের পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঈদ আনন্দ। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সুরমা নদী তীরবর্তী সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।

শহরের অনেক রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসি মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তাতে বন্যা পরিস্থিতি অবণতি হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্লাবিত সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সীমান্তের ওপারে মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী দিয়ে নেমে আসায় ফুঁসে ওঠছে সুরমা ও কুশিয়ারা। দোয়ারা বাজারের লক্ষ্মীপুরের খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধ ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রাম ও সড়ক প্লাবিত এবং প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ বানভাসি।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে আবারও ছাতকের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবেশ করছে। এই ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।