ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন ব্যবসায় জড়িত দুই মেডিকেল শিক্ষার্থী

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহম্মদ আলী মিয়া ছবি: সংগ্রহ

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের পান্ডাসহ ৮জনকে আটক করেছে সিআইডি

দীর্ঘ ৭ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেডিকেল পড়ুয়া মেহেদী হাসান ও সহযোগী খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরি এবং মডেল বানানোর লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে শ’ শ’ তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে আসছিলো।

৭ বছরে তারা কোটি কোটি টাকার বানিয়েছে। এমন তথ্য সংবাদমধ্যমকে দিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে চক্রের প্রধান পান্ডা মেডিকেল পড়ুয়া মো. মেহেদী হাসান ও তার প্রধান সহযোগী খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন, জাহিদ হাসান কাঁকন, তানভীর আহমেদ ওরফে দীপ্ত, সৈয়দ হাসিবুর রহমান, শাদাত আল মুইজ, সুস্মিতা আক্তার ওরফে পপি এবং নায়না ইসলাম।

দুই মেডিকেল শিক্ষার্থীর জিম্মায় কয়েক হাজার নারী রয়েছে। মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপে গোপনে ধারণ করা প্রায় ১০ লাখ ন্যুড ছবি ও ২০ হাজার অ্যাডাল্ট ভিডিওর সন্ধান পায় সিআইডি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার অভিযান চালিয়ে চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এই বিষয়ে সবিস্তার জানাতে, বুধবার (২৬ জুন) সিআইডির সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহম্মদ আলী মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠতি বয়সী তরুণীদের টার্গেট করে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি, ট্যালেন্ট হান্টিং ও মডেলিংয়ের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে ফাঁদে ফেলতো চক্রটি। এরপর ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অনলাইনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো।

আটককৃতদের কাছ থেকে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও তরুণীদের ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত ১২টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং আয়ের টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেক বই জব্দ করা হয়েছে।

মোহম্মদ আলী মিয়া বলেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া নামে ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ, লোভনীয় চাকরি, মডেল বানানো, মেধা অন্বেষণের নামে অল্প বয়সী তরুণীদের কাছ থেকে কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক তাদের দেহব্যবসায় নামাতো।

সিআইডি প্রধান জানান, ভয়ঙ্কর এ চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবং তার খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন মিলে চক্রটি গড়ে তোলার কথা জানান।

মোহম্মদ আলী মিয়া সাংবাদিদের জানান, চিকিৎসাবিদ্যার আড়ালে অল্প বয়সী তরুণীদের ফাঁদে ফেলে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি ও টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেঞ্জারে নানা অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করতো। এসব কাজ করে গত ৭ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে।

এই টাকায় যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং ঢাকায় বেশ পরিমাণ জমি কিনেছে। নির্মাণ করেছে আলিশান বাড়ি। তাদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ জমিয়ে রাখার তথ্য মিলেছে।

অর্থ লেনদেনের জন্য তারা ব্যবহার করতো এমএফএস বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস। ক্রিপ্টো কারেন্সিতেও তাদের হাজার হাজার ডলার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

শত শত মোবাইল সিম ব্যবহার করলেও তাদের কোনোটিই প্রকৃত ন্যাশনাল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করা নয়। এক্ষেত্রে তারা নিম্ন আয়ের মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিতো। সামান্য অর্থ দিয়ে তোলা হতো সিম কার্ড।

এ চক্রের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন ব্যবসায় জড়িত দুই মেডিকেল শিক্ষার্থী

আপডেট সময় :

 

ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের পান্ডাসহ ৮জনকে আটক করেছে সিআইডি

দীর্ঘ ৭ বছর ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেডিকেল পড়ুয়া মেহেদী হাসান ও সহযোগী খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরি এবং মডেল বানানোর লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে শ’ শ’ তরুণীকে ফাঁদে ফেলে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে আসছিলো।

৭ বছরে তারা কোটি কোটি টাকার বানিয়েছে। এমন তথ্য সংবাদমধ্যমকে দিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর ও যশোরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে চক্রের প্রধান পান্ডা মেডিকেল পড়ুয়া মো. মেহেদী হাসান ও তার প্রধান সহযোগী খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন, জাহিদ হাসান কাঁকন, তানভীর আহমেদ ওরফে দীপ্ত, সৈয়দ হাসিবুর রহমান, শাদাত আল মুইজ, সুস্মিতা আক্তার ওরফে পপি এবং নায়না ইসলাম।

দুই মেডিকেল শিক্ষার্থীর জিম্মায় কয়েক হাজার নারী রয়েছে। মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপে গোপনে ধারণ করা প্রায় ১০ লাখ ন্যুড ছবি ও ২০ হাজার অ্যাডাল্ট ভিডিওর সন্ধান পায় সিআইডি।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার অভিযান চালিয়ে চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

এই বিষয়ে সবিস্তার জানাতে, বুধবার (২৬ জুন) সিআইডির সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহম্মদ আলী মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠতি বয়সী তরুণীদের টার্গেট করে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি, ট্যালেন্ট হান্টিং ও মডেলিংয়ের নামে বিজ্ঞাপন দিয়ে ফাঁদে ফেলতো চক্রটি। এরপর ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অনলাইনে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হতো।

আটককৃতদের কাছ থেকে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও তরুণীদের ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত ১২টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং আয়ের টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও চেক বই জব্দ করা হয়েছে।

মোহম্মদ আলী মিয়া বলেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া নামে ফেসবুক আইডি ও পেজ খুলে ফ্রিল্যান্সিং কাজ, লোভনীয় চাকরি, মডেল বানানো, মেধা অন্বেষণের নামে অল্প বয়সী তরুণীদের কাছ থেকে কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক তাদের দেহব্যবসায় নামাতো।

সিআইডি প্রধান জানান, ভয়ঙ্কর এ চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি। মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবং তার খালাতো ভাই শেখ জাহিদ বিন সুজন মিলে চক্রটি গড়ে তোলার কথা জানান।

মোহম্মদ আলী মিয়া সাংবাদিদের জানান, চিকিৎসাবিদ্যার আড়ালে অল্প বয়সী তরুণীদের ফাঁদে ফেলে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি ও টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেঞ্জারে নানা অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করতো। এসব কাজ করে গত ৭ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে।

এই টাকায় যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা এবং ঢাকায় বেশ পরিমাণ জমি কিনেছে। নির্মাণ করেছে আলিশান বাড়ি। তাদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ জমিয়ে রাখার তথ্য মিলেছে।

অর্থ লেনদেনের জন্য তারা ব্যবহার করতো এমএফএস বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস। ক্রিপ্টো কারেন্সিতেও তাদের হাজার হাজার ডলার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

শত শত মোবাইল সিম ব্যবহার করলেও তাদের কোনোটিই প্রকৃত ন্যাশনাল আইডি দিয়ে নিবন্ধন করা নয়। এক্ষেত্রে তারা নিম্ন আয়ের মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিতো। সামান্য অর্থ দিয়ে তোলা হতো সিম কার্ড।

এ চক্রের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।