ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

শিল্প খাতের সামনে গভীর সংকট

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ৬১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্প খাতের উৎপাদন কমছে। বাড়ছে ব্যয়। রপ্তানি আয় কমছে। বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি হয়েছে। শিল্প খাতের সংকটের কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে রয়েছে- জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের অস্থিতিশীলতা, শ্রমিক অসন্তোষ, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কাস্টমসের হয়রানি, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়াসহ নানা কারণ। শিল্প খাতের সংকটের প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিট পোশাক খাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে। শিল্পে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে কমছে রপ্তানি আয়ও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রয়েছে ডলার সংকট। কমছে ঋণপত্র খোলা এবং নিষ্পত্তির হার। কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ধুঁকছে অনেক কারখানা। অনেক কারখানা নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না।

ফলে বাড়ছে শ্রম অসন্তোষ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনুকূল নয়। সামগ্রিকভাবেই শিল্প খাতের পরিবেশের অবনতি হচ্ছে। এসব কারণে দেশীয় উদ্যোগ যেমন কমছে, তেমনি কমছে বিদেশি বিনিয়োগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে দেশের ইপিজেডগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২২.৩৩ শতাংশ। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেপজা। ইপিজেডের বাইরে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সার্বিকভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ৭১ শতাংশ। জানা যায়, এরই মধ্যে শিল্প খাত ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলোয় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম করা হতে পারে ৭৫ টাকা। যদিও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই মূল্য নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে এক চিঠিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে শিল্পঘন এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে অবস্থিত কারখানাগুলোয় গ্যাসসংকটের কারণে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হারে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে কারখানাগুলোর প্রডাকশন শিডিউল ও সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তদুপরি পোশাক খাতে সময়মতো কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে শিল্পে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রপ্তানি বিঘ্নিত হচ্ছে, রপ্তানির নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ৩ হাজারের বেশি বৃহৎ শিল্প রয়েছে দেশে। মোট কর্মসংস্থানের ৬৮ শতাংশই উৎপাদনমুখী শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কাঁচামালের ৬৩ শতাংশ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ৫৬ শতাংশই ব্যবহার করে রড-সিমেন্ট, বস্ত্র খাতের মতো বৃহৎ শিল্পগুলো। ফলে ডলারের উচ্চমূল্য এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এসব শিল্পের উৎপাদনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ওপর বাজারে চাহিদা না থাকায় মিল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, শিল্পখাতের মূলধনি যন্ত্র আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে।

ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। অপরদিকে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শিল্পে উৎপাদন খাতের অবদান ১১.৫ থেকে কমে ৮.৭৭ শতাংশে নেমেছে। বিবিএসের হিসাবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন খাতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাবে গত অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকায়। ১১ বছরে উৎপাদন খাতের মোট উৎপাদনমূল্য প্রায় ৫.৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছর গড়ে ১৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধস নামার বছরেও এই খাতে ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল। এছাড়া প্রতিবছরই উৎপাদন খাতে ডাবল ডিজিট, এমনকি কোনো কোনো বছর ১৮ শতাংশ ছুঁই ছুঁই প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এই সময়ে মোট জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ১৭.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করে হাসিনা সরকার।উৎপাদন খাতের হাত ধরে শিল্প খাতে বছরের পর বছর ধরে দেখানো জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই হিসাব মিলছে না বিবিএস পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর প্রাথমিক ফলাফলে।আজ প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত ১১ বছরে উৎপাদন খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫.৩৯ শতাংশ। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত শুমারির তুলনায় ২০১৩ সালের শুমারিতে এই খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছিল ১০০.৪২ শতাংশ। সার্বিকভাবে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সব সময় প্রত্যাশা থাকে দেশে শিল্প বাড়ুক, ছোট কোম্পানি থেকে মাঝারি, আবার মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় কম্পানি হয়ে উঠুক। কিন্তু অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পের আকার সেভাবে বাড়েনি। এটি অর্থনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শিল্প-কারখানায় উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পায়ন না হওয়ার পেছেন সরকারের প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা রয়েছে। নীতি কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিল্প খাতের সামনে গভীর সংকট

আপডেট সময় :

শিল্প খাতের উৎপাদন কমছে। বাড়ছে ব্যয়। রপ্তানি আয় কমছে। বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি হয়েছে। শিল্প খাতের সংকটের কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এরমধ্যে রয়েছে- জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের অস্থিতিশীলতা, শ্রমিক অসন্তোষ, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, কাস্টমসের হয়রানি, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়াসহ নানা কারণ। শিল্প খাতের সংকটের প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও নিট পোশাক খাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে। শিল্পে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে কমছে রপ্তানি আয়ও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রয়েছে ডলার সংকট। কমছে ঋণপত্র খোলা এবং নিষ্পত্তির হার। কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ধুঁকছে অনেক কারখানা। অনেক কারখানা নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না।

ফলে বাড়ছে শ্রম অসন্তোষ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অনুকূল নয়। সামগ্রিকভাবেই শিল্প খাতের পরিবেশের অবনতি হচ্ছে। এসব কারণে দেশীয় উদ্যোগ যেমন কমছে, তেমনি কমছে বিদেশি বিনিয়োগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে দেশের ইপিজেডগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২২.৩৩ শতাংশ। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেপজা। ইপিজেডের বাইরে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সার্বিকভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ৭১ শতাংশ। জানা যায়, এরই মধ্যে শিল্প খাত ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলোয় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়ে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম করা হতে পারে ৭৫ টাকা। যদিও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই মূল্য নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে এক চিঠিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে শিল্পঘন এলাকাগুলোতে, বিশেষ করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে অবস্থিত কারখানাগুলোয় গ্যাসসংকটের কারণে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হারে উৎপাদন কমে গেছে। ফলে কারখানাগুলোর প্রডাকশন শিডিউল ও সরবরাহ চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তদুপরি পোশাক খাতে সময়মতো কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে শিল্পে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রপ্তানি বিঘ্নিত হচ্ছে, রপ্তানির নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ৩ হাজারের বেশি বৃহৎ শিল্প রয়েছে দেশে। মোট কর্মসংস্থানের ৬৮ শতাংশই উৎপাদনমুখী শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কাঁচামালের ৬৩ শতাংশ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানির ৫৬ শতাংশই ব্যবহার করে রড-সিমেন্ট, বস্ত্র খাতের মতো বৃহৎ শিল্পগুলো। ফলে ডলারের উচ্চমূল্য এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এসব শিল্পের উৎপাদনে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ওপর বাজারে চাহিদা না থাকায় মিল মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই পুঁজি হারানোর শঙ্কায় আছেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, শিল্পখাতের মূলধনি যন্ত্র আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে।

ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। অপরদিকে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শিল্পে উৎপাদন খাতের অবদান ১১.৫ থেকে কমে ৮.৭৭ শতাংশে নেমেছে। বিবিএসের হিসাবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন খাতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাবে গত অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকায়। ১১ বছরে উৎপাদন খাতের মোট উৎপাদনমূল্য প্রায় ৫.৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছর গড়ে ১৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধস নামার বছরেও এই খাতে ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল। এছাড়া প্রতিবছরই উৎপাদন খাতে ডাবল ডিজিট, এমনকি কোনো কোনো বছর ১৮ শতাংশ ছুঁই ছুঁই প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এই সময়ে মোট জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ১৭.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করে হাসিনা সরকার।উৎপাদন খাতের হাত ধরে শিল্প খাতে বছরের পর বছর ধরে দেখানো জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই হিসাব মিলছে না বিবিএস পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর প্রাথমিক ফলাফলে।আজ প্রকাশিতব্য অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত ১১ বছরে উৎপাদন খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫.৩৯ শতাংশ। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত শুমারির তুলনায় ২০১৩ সালের শুমারিতে এই খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছিল ১০০.৪২ শতাংশ। সার্বিকভাবে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সব সময় প্রত্যাশা থাকে দেশে শিল্প বাড়ুক, ছোট কোম্পানি থেকে মাঝারি, আবার মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় কম্পানি হয়ে উঠুক। কিন্তু অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পের আকার সেভাবে বাড়েনি। এটি অর্থনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শিল্প-কারখানায় উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পায়ন না হওয়ার পেছেন সরকারের প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা রয়েছে। নীতি কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।