ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

শ্যালো নৌকার শব্দ শুনলেই ত্রাণের আশায় ছুটে আসে বানভাসি মানুষ

শ্যামল ভৌমিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৯২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দুই সপ্তাহে যাবত বন্যায় কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত হাজারো মানুষ। বানের জল এসব এলাকার মানুষের কর্ম কেড়ে নিয়েছে। কর্মহীন মানুষের দীর্ঘ মিছিল। শ্যালো নৌকার শব্দ শুনলেই ত্রাণের আশায় ছুটে আসে বানভাসি মানুষ।

জেলা সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার বাসিন্দা ছামিনা বেগম। ৪ সন্তান ও কর্মহীন দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে পার্শ্ববর্তী উচুঁ স্থানে পলিথিন টানিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ছামিনা জানালেন, বানের জল কেড়ে স্বামী কর্ম। কোন কাজ নেই তাই। বন্যার শুরুতেই সরকারি ভাবে ১০ কেজি চাল পেয়েছেন। তাও শেষ হয়ে গেছে। আগামী দিনগুলো শিশু সন্তানদের নিয়ে কিভাবে পারি কাটাবেন, সেই ভাবনায় নির্ঘুমরাত কাটে ছামিনার। ধরা গলায় কথা বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল।

এক পর্যায়ে কেঁদে ফেললেন ছামিনা। জানান বাড়ী থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। বাড়িঘর মেরামতের সামর্থ নেই তাদের।

একই এলাকার জামাল হোসেন। ৬ সদস্যের সংসার। চোখেমুখে হতাশা। মুখের কথা হারিয়ে ফেলেছেন জামাল। চারিদিকে থৈ থৈ করছে বানের। এযেন সাক্ষাত যমদূত হয়ে এসেছে জামাল হোসেনদের জীবনে।

কর্মহীন মানুষগুলোর ঘরে খাবারও নেই। সে জানায়, ত্রাণ সহায়তা ছাড়া এই মহুর্তে তার আর কোন উপায় নেই। দীর্ঘদিন পানিতে বাড়ী-ঘর তলিয়ে থাকায় পঁচে-গলে গিয়েছে ঘরের বেড়া দরজা। পানি নেমে যাওয়ার পর ঘর-দরজা নতুন করে মেরামত ছাড়া ঐঘরে বাস করা সম্ভব হবে না।

একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড়। বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার চরম দুর্ভোগে আছে জেলার ৫৫ ইউনিয়নের ২ লাখেরও বেশী মানুষ। দীর্ঘ ১৩দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বানের জরেল যুবে আছে বসতবাড়ী ও সড়ক। একারণে বাড়ি ফেরা সম্ভব অনেকের পক্ষে।
গবাদি পশুসহ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাছে তাদের।

জেলা প্রশাসনের তরফে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৫৮৭ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৩৩ লাখ টাকা ও ২৫ হাজার প্যাকেট শুকনো বিতরণ করা হলেও, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ত্রাণের আওতায় আসেনি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বিভাগ জানায়, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শ্যালো নৌকার শব্দ শুনলেই ত্রাণের আশায় ছুটে আসে বানভাসি মানুষ

আপডেট সময় :

 

দুই সপ্তাহে যাবত বন্যায় কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদী অববাহিকার বন্যা কবলিত হাজারো মানুষ। বানের জল এসব এলাকার মানুষের কর্ম কেড়ে নিয়েছে। কর্মহীন মানুষের দীর্ঘ মিছিল। শ্যালো নৌকার শব্দ শুনলেই ত্রাণের আশায় ছুটে আসে বানভাসি মানুষ।

জেলা সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার বাসিন্দা ছামিনা বেগম। ৪ সন্তান ও কর্মহীন দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে পার্শ্ববর্তী উচুঁ স্থানে পলিথিন টানিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ছামিনা জানালেন, বানের জল কেড়ে স্বামী কর্ম। কোন কাজ নেই তাই। বন্যার শুরুতেই সরকারি ভাবে ১০ কেজি চাল পেয়েছেন। তাও শেষ হয়ে গেছে। আগামী দিনগুলো শিশু সন্তানদের নিয়ে কিভাবে পারি কাটাবেন, সেই ভাবনায় নির্ঘুমরাত কাটে ছামিনার। ধরা গলায় কথা বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল।

এক পর্যায়ে কেঁদে ফেললেন ছামিনা। জানান বাড়ী থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। বাড়িঘর মেরামতের সামর্থ নেই তাদের।

একই এলাকার জামাল হোসেন। ৬ সদস্যের সংসার। চোখেমুখে হতাশা। মুখের কথা হারিয়ে ফেলেছেন জামাল। চারিদিকে থৈ থৈ করছে বানের। এযেন সাক্ষাত যমদূত হয়ে এসেছে জামাল হোসেনদের জীবনে।

কর্মহীন মানুষগুলোর ঘরে খাবারও নেই। সে জানায়, ত্রাণ সহায়তা ছাড়া এই মহুর্তে তার আর কোন উপায় নেই। দীর্ঘদিন পানিতে বাড়ী-ঘর তলিয়ে থাকায় পঁচে-গলে গিয়েছে ঘরের বেড়া দরজা। পানি নেমে যাওয়ার পর ঘর-দরজা নতুন করে মেরামত ছাড়া ঐঘরে বাস করা সম্ভব হবে না।

একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী মোগলবাসা ইউনিয়নের চর সিতাইঝাড়। বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘ হওয়ার চরম দুর্ভোগে আছে জেলার ৫৫ ইউনিয়নের ২ লাখেরও বেশী মানুষ। দীর্ঘ ১৩দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বানের জরেল যুবে আছে বসতবাড়ী ও সড়ক। একারণে বাড়ি ফেরা সম্ভব অনেকের পক্ষে।
গবাদি পশুসহ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়ে দুর্ভোগে দিন কাটাছে তাদের।

জেলা প্রশাসনের তরফে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৫৮৭ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৩৩ লাখ টাকা ও ২৫ হাজার প্যাকেট শুকনো বিতরণ করা হলেও, অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ত্রাণের আওতায় আসেনি।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বিভাগ জানায়, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।