ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের

পাল্টে যাচ্ছে কারাগারের নাম

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ৪৬২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৃটিশ আমলের দেয়া কারাগারের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম দেয়া হচ্ছে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’। কারাগারের নতুন নাম করনের সকল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগরই কারা সেক্টর নতুন নামে পথ চলা শুরু করবে। এদিকে কারা সেক্টরের সব বিষয়গুলোর উন্নতি হলেও গুরুতর অসুস্থ বন্দির তাৎক্ষনিক স্বাস্থ্য সেবায় ভোগান্তি রয়েই গেছে। নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার। আইজি প্রিজন নিজেই এ সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেছেন, কিছু দিনের মধ্যে বন্দির স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গতকাল কারা সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি বলেন, কারাগারকেন্দ্রীক সংশোধনের বিষয়টির উপর অধিক গুরুত্বারোপের জন্য বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইন কানুন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। আর অধিকতর সমন্বয়ের জন্য ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ২টি বিভাগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারে লোকবল সংকট রয়েছে। সেই সংকট নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ১৮৯৯ নতুন জনবলের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আরও ১৫০০ জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় সদর দপ্তরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং নতুন জনবল পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী সব কারাগারকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্ট সিস্টেম এবং টিম ট্রেকার্স চালু করা হয়েছে। কমপ্রিহেনসিভ মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন ও মোবাইল ডিটেক্টর কারা নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এআই নির্ভর সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিউটিতে দায়িত্বরতদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রচলন করা হয়েছে।
এছাড়া কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বন্দিদের সাক্ষাৎ ও টেলিফোন কলের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের টেলিফোন কল এবং দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং একইসঙ্গে নিবিড় নজরদারিও বজায় রাখা যায়। আমরা এজন্য এআই নির্ভর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছি। কারাগার প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সম্মানসূচক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাক্ষাতের সময় তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হটলাইন সেবা (১৬১৯১) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীরা বন্দি সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।
বন্দিদের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের খাবারের মেন্যুতে প্রোটিনের পরিমাণ এরইমধ্যে স্বল্প পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং তা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, এরইমধ্যে তার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সকালের নাস্তা এবং বিশেষ দিবসের জন্যও খাদ্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
বন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীও সেবা নিতে পারবেন। বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন কারাগারে স্থান সংকুলান সাপেক্ষে নানাবিধ খেলাধুলা, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ মনন চর্চার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের সংশোধনের নিমিত্তে ধর্মীয় শিক্ষাসহ নানাবিধ কাউন্সিলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্তদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, অবসরগামী কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রত্রিয়াধীন রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নতমানের প্যাকেটজাত রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে যোগ্য রাখার স্বার্থে ওয়েট চার্ট সুনির্দিষ্টকরণসহ পিটি-প্যারেড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া করা হয়েছে।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বলেন, বিগত সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে উপলব্ধি করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কারারক্ষী গড়ে তুলতে আমরা সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগপোযোগী/টেকনোলজি নির্ভর প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। বিগত এক বছরে ৬৯১ জন কারারক্ষী, ১৫০ জন প্রধান কারারক্ষী, ৬৯ জন সর্বপ্রধান কারারক্ষী, ৩০ জন সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ৫৫ জন ডেপুটি জেলার ও জেলারগণকে বিভিন্ন পেশাগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মাদকাসক্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১ বছরে মাদকসেবী ২৯ জন সদস্যকে মাদক বহন/গ্রহণ/সরবরাহে জড়িত থাকার অপরাধে ফৌজদারি মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কারা সদর দপ্তর নিজস্ব ভোপ টেস্টিং মেশিন সংগ্রহ করেছে।
তিনি বলেন, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি এবং সব নিয়ম বহির্ভূত বিষয়েও আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। বিগত এক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত, ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ১৭২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পরিবার নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা স্কিম থেকে সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদবিহীন লোন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাল্টে যাচ্ছে কারাগারের নাম

আপডেট সময় :

বৃটিশ আমলের দেয়া কারাগারের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম দেয়া হচ্ছে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’। কারাগারের নতুন নাম করনের সকল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগরই কারা সেক্টর নতুন নামে পথ চলা শুরু করবে। এদিকে কারা সেক্টরের সব বিষয়গুলোর উন্নতি হলেও গুরুতর অসুস্থ বন্দির তাৎক্ষনিক স্বাস্থ্য সেবায় ভোগান্তি রয়েই গেছে। নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, নেই পর্যাপ্ত ডাক্তার। আইজি প্রিজন নিজেই এ সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেছেন, কিছু দিনের মধ্যে বন্দির স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গতকাল কারা সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি বলেন, কারাগারকেন্দ্রীক সংশোধনের বিষয়টির উপর অধিক গুরুত্বারোপের জন্য বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারা বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইন কানুন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। আর অধিকতর সমন্বয়ের জন্য ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ২টি বিভাগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারে লোকবল সংকট রয়েছে। সেই সংকট নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ১৮৯৯ নতুন জনবলের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আরও ১৫০০ জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় সদর দপ্তরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং নতুন জনবল পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী সব কারাগারকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্ট সিস্টেম এবং টিম ট্রেকার্স চালু করা হয়েছে। কমপ্রিহেনসিভ মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন ও মোবাইল ডিটেক্টর কারা নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এআই নির্ভর সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিউটিতে দায়িত্বরতদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রচলন করা হয়েছে।
এছাড়া কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বন্দিদের সাক্ষাৎ ও টেলিফোন কলের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের টেলিফোন কল এবং দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং একইসঙ্গে নিবিড় নজরদারিও বজায় রাখা যায়। আমরা এজন্য এআই নির্ভর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছি। কারাগার প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সম্মানসূচক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাক্ষাতের সময় তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হটলাইন সেবা (১৬১৯১) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীরা বন্দি সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।
বন্দিদের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের খাবারের মেন্যুতে প্রোটিনের পরিমাণ এরইমধ্যে স্বল্প পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং তা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, এরইমধ্যে তার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সকালের নাস্তা এবং বিশেষ দিবসের জন্যও খাদ্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
বন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীও সেবা নিতে পারবেন। বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন কারাগারে স্থান সংকুলান সাপেক্ষে নানাবিধ খেলাধুলা, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ মনন চর্চার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের সংশোধনের নিমিত্তে ধর্মীয় শিক্ষাসহ নানাবিধ কাউন্সিলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্তদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, অবসরগামী কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রত্রিয়াধীন রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নতমানের প্যাকেটজাত রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে যোগ্য রাখার স্বার্থে ওয়েট চার্ট সুনির্দিষ্টকরণসহ পিটি-প্যারেড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া করা হয়েছে।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বলেন, বিগত সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে উপলব্ধি করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কারারক্ষী গড়ে তুলতে আমরা সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগপোযোগী/টেকনোলজি নির্ভর প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। বিগত এক বছরে ৬৯১ জন কারারক্ষী, ১৫০ জন প্রধান কারারক্ষী, ৬৯ জন সর্বপ্রধান কারারক্ষী, ৩০ জন সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ৫৫ জন ডেপুটি জেলার ও জেলারগণকে বিভিন্ন পেশাগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মাদকাসক্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১ বছরে মাদকসেবী ২৯ জন সদস্যকে মাদক বহন/গ্রহণ/সরবরাহে জড়িত থাকার অপরাধে ফৌজদারি মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কারা সদর দপ্তর নিজস্ব ভোপ টেস্টিং মেশিন সংগ্রহ করেছে।
তিনি বলেন, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি এবং সব নিয়ম বহির্ভূত বিষয়েও আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। বিগত এক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত, ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ১৭২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পরিবার নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা স্কিম থেকে সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদবিহীন লোন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।