ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের Logo সভাপতি মোশাররফ, সম্পাদক মিজান

সাদিক অ্যাগ্রোতে সেই ১৫ লাখ টাকার ছাগল, খামার দুটোর প্রায় পুরোটাই ছিল অবৈধ জায়গায়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ৪৭১ বার পড়া হয়েছে

এই সেই ছাগল, যেটি কোরবানির জন্য সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় কিনতে গিয়েছিলেন এনবিআরের সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত, উচ্ছেদের সময় এটি সরিয়ে নেওয়া হয় : ছবি সংগ্রহ

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অবৈধ জায়গায় গড়ে তোলা সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবৈধ জায়গায় গড়ে তোলা সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম-এর দুটি খামারের অবৈধ অংশ ভেঙে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। খামার দুটির একটি সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ১ নম্বর সড়কের শেষে রামচন্দ্রপুর খালের পাড়ে। অন্যটি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে নবীনগর হাউজিং এলাকার ৭ নম্বর সড়কের শুরুতে।

সাতমসজিদ হাউজিং এলাকায় মাত্র পৌনে ৫ শতক জমি ভাড়া নিয়ে ২০ শতকের ওপর খামার গড়ে তুলেছিল সাদিক অ্যাগ্রো। সেখানে তারা রামচন্দ্রপুর খালের প্রায় ১৫ শতক জায়গা দখলে নিয়েছিল। আর বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ে সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি গড়ে তোলা হয়েছিল পুরোটাই অবৈধ জায়গায়। সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৩ শতক (এক বিঘা) জমিতে তৈরি করা হয়েছিল এই খামার।

সিটি করপোরেশন সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার সময় সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকার আলোচিত সেই ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়
সিটি করপোরেশন সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার সময় সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকার আলোচিত সেই ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়।

কোরবানির জন্য এই সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনতে গিয়েছিলেন এনবিআরের সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল আলোচনা হয়। এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মতিউরকে এরই মধ্যে এনবিআর থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া সাদিক অ্যাগ্রোর খামারের পেছনের অংশেই খাল ভরাট করা জায়গায় রিকশার গ্যারেজ ও বস্তিঘরের মতো বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ছিল। অভিযানে এগুলোর বেশ কয়েকটি গ্যারেজ ও বস্তিঘর উচ্ছেদ করা হয়। তবে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে খাল ভরাট করে বসানো বস্তিঘরের বাসিন্দারা ছাউনির টিন ও বাঁশ-কাঠ খুলে ফেলতে শুরু করেন। পরে বাঁশ ও খুঁটিগুলো ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় খালের পাড়ে অবৈধভাবে টিনের ছাউনি দিয়ে বানানো সাতমসজিদ ইউনিট আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও ভাঙা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযান চলাকালে সাদিক অ্যাগ্রোর কোনো কর্মকর্তা কিংবা জায়গার কোনো মালিক কাগজপত্র নিয়ে দেখা করেননি। আর সিটি করপোরেশনের অভিযান কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। যারা খাল দখলকারী, তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সাতমসজিদ হাউজিংয়ে সাদিক অ্যাগ্রো খামারের জন্য যে জায়গা ভাড়া নিয়েছে, এর পরিমাণ প্রায় পৌনে ৫ শতক। কিন্তু তাদের খামার রয়েছে প্রায় ২০ শতক জায়গার ওপর। আর নবীনগর হাউজিংয়ের এলাকায় থাকা খামারটি সড়কের প্রায় এক বিঘা (৩৩ শতক) জায়গা বেদখল করে বানানো হয়েছিল।

অভিযানে বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি স-মিল ও অন্যান্য কিছু অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার পরে অভিযান শেষ হয়। এরপর ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, অভিযানে ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ বিঘা জমি উদ্ধার করা হয়। উচ্ছেদ করা মালামাল উন্মুক্ত নিলামে ৬৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আগামী তিন দিন এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাদিক অ্যাগ্রোতে সেই ১৫ লাখ টাকার ছাগল, খামার দুটোর প্রায় পুরোটাই ছিল অবৈধ জায়গায়

আপডেট সময় :

 

অবৈধ জায়গায় গড়ে তোলা সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অবৈধ জায়গায় গড়ে তোলা সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বুলডোজার।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম-এর দুটি খামারের অবৈধ অংশ ভেঙে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। খামার দুটির একটি সাতমসজিদ হাউজিংয়ের ১ নম্বর সড়কের শেষে রামচন্দ্রপুর খালের পাড়ে। অন্যটি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে নবীনগর হাউজিং এলাকার ৭ নম্বর সড়কের শুরুতে।

সাতমসজিদ হাউজিং এলাকায় মাত্র পৌনে ৫ শতক জমি ভাড়া নিয়ে ২০ শতকের ওপর খামার গড়ে তুলেছিল সাদিক অ্যাগ্রো। সেখানে তারা রামচন্দ্রপুর খালের প্রায় ১৫ শতক জায়গা দখলে নিয়েছিল। আর বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ে সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি গড়ে তোলা হয়েছিল পুরোটাই অবৈধ জায়গায়। সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৩ শতক (এক বিঘা) জমিতে তৈরি করা হয়েছিল এই খামার।

সিটি করপোরেশন সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার সময় সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকার আলোচিত সেই ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়
সিটি করপোরেশন সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার সময় সেখান থেকে ১৫ লাখ টাকার আলোচিত সেই ছাগল সরিয়ে নেওয়া হয়।

কোরবানির জন্য এই সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কিনতে গিয়েছিলেন এনবিআরের সদস্য মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল আলোচনা হয়। এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসে। মতিউরকে এরই মধ্যে এনবিআর থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া সাদিক অ্যাগ্রোর খামারের পেছনের অংশেই খাল ভরাট করা জায়গায় রিকশার গ্যারেজ ও বস্তিঘরের মতো বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ছিল। অভিযানে এগুলোর বেশ কয়েকটি গ্যারেজ ও বস্তিঘর উচ্ছেদ করা হয়। তবে উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে খাল ভরাট করে বসানো বস্তিঘরের বাসিন্দারা ছাউনির টিন ও বাঁশ-কাঠ খুলে ফেলতে শুরু করেন। পরে বাঁশ ও খুঁটিগুলো ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় খালের পাড়ে অবৈধভাবে টিনের ছাউনি দিয়ে বানানো সাতমসজিদ ইউনিট আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও ভাঙা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযান চলাকালে সাদিক অ্যাগ্রোর কোনো কর্মকর্তা কিংবা জায়গার কোনো মালিক কাগজপত্র নিয়ে দেখা করেননি। আর সিটি করপোরেশনের অভিযান কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। যারা খাল দখলকারী, তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সাতমসজিদ হাউজিংয়ে সাদিক অ্যাগ্রো খামারের জন্য যে জায়গা ভাড়া নিয়েছে, এর পরিমাণ প্রায় পৌনে ৫ শতক। কিন্তু তাদের খামার রয়েছে প্রায় ২০ শতক জায়গার ওপর। আর নবীনগর হাউজিংয়ের এলাকায় থাকা খামারটি সড়কের প্রায় এক বিঘা (৩৩ শতক) জায়গা বেদখল করে বানানো হয়েছিল।

অভিযানে বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে থাকা কয়েকটি স-মিল ও অন্যান্য কিছু অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার পরে অভিযান শেষ হয়। এরপর ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, অভিযানে ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ বিঘা জমি উদ্ধার করা হয়। উচ্ছেদ করা মালামাল উন্মুক্ত নিলামে ৬৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আগামী তিন দিন এই উচ্ছেদ কার্যক্রম চলবে।