গোয়ালন্দের স্বপ্ন কুড়ির সেরা ৩ পুত্রবধূকে সন্মাননা
- আপডেট সময় : ৫৭ বার পড়া হয়েছে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সেরা তিন পুত্র বধুকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাদের শশুর শাশুড়ীর সাথে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন ও সেবার কারণে। ব্যতিক্রমী এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক ও সংস্কৃতিক সংগঠন স্বপ্ন কুড়ি। গতকাল সোমবার গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
সেরা পুত্রবধূরা হলেন মোছাঃ সহিতন নেছা, নাছিমা আক্তার ডলি এবং ফেরদৌসী বেগম।
আজ যেখানে উচ্চ শিক্ষিত ছেলে মেয়ের মা ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় সাতদিন থাকে সেখানে।
‘পুত্রবধূ ও শ্বশুর-শাশুড়ির ঐকান্তিক অনবদ্য ও চিরায়ত সম্পর্কের বন্ধন’ এই স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত সেরা পুত্রবধূ সম্মাননা পুরস্কার পেয়ে আনন্দিত পুত্রবধূরা।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আবু সাইদ মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা সাথী দাস।
বিশেষ অতিথি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল কাদের শেখ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মহিত হীরা, সানোয়ার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আশরাফ হিমেল, শিক্ষানবীশ আইনজীবী নাজমুল হাসান, আকিব সরদার।
আবু সাইদ মন্ডল বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সমাজে পরিবারগুলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। আবহমান বাংলার যে ঐতিহ্য একান্নবর্তী পরিবার, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই এই বিশেষ সম্মাননা পুরস্কারের আয়োজন করা হয়েছে।’ যাচাই-বাছাই কমিটি গোয়ালন্দের ৪৭ জন পুত্রবধূর মধ্য থেকে সেরা ৩ জনকে মনোনীত করেন।
সম্মাননা পাওয়া পুত্রবধূ ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘এই সম্মাননা স্মারক পেয়ে আনন্দিত আমি। আমার শ্বশুর সবসময় আমাকে মা বলে ডাকতো। এমনকি মেশিন চালানোর সময় তার রুমে চালিয়েছি তার আশেপাশে থাকার জন্য। এই শ্বশুর শাশুড়ীর প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা এগুলো কাউকে বলে করানো যায় না এটা আসে ভেতর থেকে।
সম্মাননা স্মারক পাওয়া আরেক সেরা পুত্রবধূ নাছিমা আক্তার ডলি বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়িকে ভালোবাসার মাধ্যমে আমার মা-বাবাকে খুঁজে পাই। আমার শ্বশুর সবসময় আমাকে মা বলতো সন্তানের মতো তাকে দেখাশোনা করেছি। সবসময় তার কাছাকাছি থেকেছি তার সেবা করার জন্য।
মোছাঃ সহিতন নেছা যিনি সকালে খাবার হোটেল চালিয়ে সারাদিন শাশুড়ীর সেবা করেন। তার থাকার ঘর নেই সহায়তা চান। তার শাশুড়ীর আরেক ছেলে ভালো ব্যাবসায়ী তিনি মায়ের খোঁজ নেন না আর মা বলেন তার কোন ছেলে নেই। এটাই সমাজের চরম বাস্তবতা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, একটা সময় একান্নবর্তী পরিবার ছিল এগুলো কমন বিষয় ছিল এখন এগুলো খুজে বের করে নিয়ে আসতে হয়। তবে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য পুত্রবধূরা তাদের শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি আরও বেশি যত্নবান হবেন। এতে সমাজের সব মা-বাবা ভালো থাকবে। সবার মাঝে থাকবে না কোনো দূরত্ব, এমন আয়োজন সবাইকেই অনুপ্রেরণা জোগাবে।




















