ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের

জমে উঠেছে দিনাজপুরের লিচুর বাজার

আসাদুজ্জামান আসাদ, দিনাজপুর
  • আপডেট সময় : ৫৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু বেদানা সহ সব ধরনের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর পাইকারি বাজার কালিতলা ও পুলহাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে লিচু কেনাবেচার মহোৎসব। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকাররা আড়তদারদের সাথে দরদাম করে মাদ্রাজি, বেদানা, কাঁঠালি, বোম্বাই ও চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আগাম লিচু কিনতে সরাসরি বাগানে ভিড় করছেন। সদর উপজেলার উলিপুর, আউলিযাপুর, মাছিমপুর, সিকদারহাট এবং বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাদ, মঙ্গলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বিশেষ যত্নে বাঁশের ঝুড়িতে প্যাকেটিং করে পাঠানো হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বোম্বাই ও চায়না-২ সহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চাষিরা একটু আগেভাগেই লিচু পাড়তে শুরু করেছেন। কালিতলা নিউ মার্কেটে আকারভেদে প্রতি ১০০ মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত লিচুর শতকরা ২০ ভাগ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৮০ ভাগই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোতাহের হোসেন জানান, দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত দুই বছর ধরে এই লিচু বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। গত বছর ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সফলভাবে লিচু পাঠানো হয়েছে এবং এবারও বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রেতা লিচু নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসের তীব্র দাবদাহের পর জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টিতে গাছে থাকা লিচু রক্ষায় মাঠকর্মীরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এর ফলে চাষিরা লিচুর ভালো দাম পাচ্ছেন।
তবে কালিতলা নিউ মার্কেটের আড়তদার মওলা বক্স ও খুচরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, তীব্র গরমের কারণে মাদ্রাজি লিচু ঝরে পড়ায় এর সরবরাহ কিছুটা কম এবং ঢাকার পাইকারদের আধিক্যের কারণে স্থানীয় বাজারে এবার লিচুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা চড়া। কালিতলা পাইকারি বাজারের ইজারাদার মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, এটি শহরের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার, যেখানে দৈনিক ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই বাজারটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
র্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৫৮০টি গাছে লিচুর চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লিচু খাত থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার অধিক বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জমে উঠেছে দিনাজপুরের লিচুর বাজার

আপডেট সময় :

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু বেদানা সহ সব ধরনের লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর পাইকারি বাজার কালিতলা ও পুলহাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে লিচু কেনাবেচার মহোৎসব। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পাইকাররা আড়তদারদের সাথে দরদাম করে মাদ্রাজি, বেদানা, কাঁঠালি, বোম্বাই ও চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য আগাম লিচু কিনতে সরাসরি বাগানে ভিড় করছেন। সদর উপজেলার উলিপুর, আউলিযাপুর, মাছিমপুর, সিকদারহাট এবং বিরল উপজেলার ফারাক্কাবাদ, মঙ্গলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে বিশেষ যত্নে বাঁশের ঝুড়িতে প্যাকেটিং করে পাঠানো হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচু পাওয়া যাচ্ছে। তবে বোম্বাই ও চায়না-২ সহ অন্যান্য জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চাষিরা একটু আগেভাগেই লিচু পাড়তে শুরু করেছেন। কালিতলা নিউ মার্কেটে আকারভেদে প্রতি ১০০ মাদ্রাজি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বেদানা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং চায়না-৩ লিচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত লিচুর শতকরা ২০ ভাগ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি ৮০ ভাগই চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোতাহের হোসেন জানান, দিনাজপুরের বেদানা লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত দুই বছর ধরে এই লিচু বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। গত বছর ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় সফলভাবে লিচু পাঠানো হয়েছে এবং এবারও বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রেতা লিচু নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসের তীব্র দাবদাহের পর জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টিতে গাছে থাকা লিচু রক্ষায় মাঠকর্মীরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এর ফলে চাষিরা লিচুর ভালো দাম পাচ্ছেন।
তবে কালিতলা নিউ মার্কেটের আড়তদার মওলা বক্স ও খুচরা ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম জানান, তীব্র গরমের কারণে মাদ্রাজি লিচু ঝরে পড়ায় এর সরবরাহ কিছুটা কম এবং ঢাকার পাইকারদের আধিক্যের কারণে স্থানীয় বাজারে এবার লিচুর দাম গতবারের চেয়ে কিছুটা চড়া। কালিতলা পাইকারি বাজারের ইজারাদার মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, এটি শহরের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার, যেখানে দৈনিক ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই বাজারটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
র্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক জানান, চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ হাজার ৫৮০টি গাছে লিচুর চাষ হয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন। বাজারদর ভালো থাকায় এ বছর লিচু খাত থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার অধিক বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ।