ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের টিন আত্মসাৎতের অভিযোগ

জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ঢেউটিন নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের সিংড়িয়া বনচুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে ঢেউটিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই অস্থায়ী টিনশেড কক্ষগুলো ভেঙে ফেলা হয়।অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে এবং কোনো ধরনের নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের টিন গোপনে বিক্রি করে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা বিভাগকে অবহিত না করে সরকারি সম্পদ বিক্রি করা আইন ও বিধি-বিধানের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্রের বক্তব্য নিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বাসায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টিতে অস্থায়ী টিনশেড নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে টিন বিক্রি বা নিলাম সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান(এটিও) বলেন, “বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।” এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে যতদূর জানি, কোনো নিলাম হয়নি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বিক্রিকৃত মালামালের অর্থ কোথায় গেছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের টিন আত্মসাৎতের অভিযোগ

আপডেট সময় :

নীলফামারীর জলঢাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ঢেউটিন নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের সিংড়িয়া বনচুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে ঢেউটিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওই অস্থায়ী টিনশেড কক্ষগুলো ভেঙে ফেলা হয়।অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করে এবং কোনো ধরনের নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের টিন গোপনে বিক্রি করে দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্র। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা বিভাগকে অবহিত না করে সরকারি সম্পদ বিক্রি করা আইন ও বিধি-বিধানের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুধীর চন্দ্রের বক্তব্য নিতে বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বাসায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংবাদকর্মীর উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টিতে অস্থায়ী টিনশেড নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে টিন বিক্রি বা নিলাম সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান(এটিও) বলেন, “বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।” এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে যতদূর জানি, কোনো নিলাম হয়নি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, বিক্রিকৃত মালামালের অর্থ কোথায় গেছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত—তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।