ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘খেলাধুলাই পারে সীমান্তের দেয়াল ভাঙতে’: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক Logo ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঠেকাতে চিলমারী রক্ষার দাবি, চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আহ্বান Logo ‘সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে’—সিরাজগঞ্জে মন্ত্রী টুকু Logo সুবর্ণচরে মৎস্য প্রজেক্ট দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ, মানববন্ধনে বাধার দাবি Logo বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্টগার্ডের Logo বন্ধ পাটকল ও টেক্সটাইল মিল চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী Logo কাঁঠালিয়ায় মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি Logo নোয়াখালীতে ট্রাকের ধাক্কায় কৃষি কর্মকর্তা নিহত Logo ঘাটাইলে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক র‍্যালি Logo জনবল সংকট ও দালালচক্রে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি

জনবল সংকট ও দালালচক্রে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। প্রায় আট লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল নানা সংকটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আটরশিয়া গ্রামের জাহিদ হাসান জানান, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা না থাকায় এক নারী তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে এক হাজার টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন রামচন্দ্রপুর এলাকার খালেদা বেগম, সাহাপাড়ার সায়েমা বেগমসহ আরও কয়েকজন রোগী। তাদের দাবি, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের আশপাশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন ক্লিনিকের হয়ে কাজ করা ১৫ থেকে ১৬ জন নারী-পুরুষ রোগী ধরার কাজে সক্রিয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের মধ্যে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীও রয়েছেন। তারা রোগীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং কমিশনের ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে উৎসাহিত করেন।

হাসপাতাল চত্বরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা অবস্থান করতে দেখা যায়। এছাড়া চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ও ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। অনেক প্রতিনিধিকে চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র থেকে ওষুধ নেওয়া এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে সীমিতসংখ্যক সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভর্তি রোগীও জানান, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বেশির ভাগ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৮১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৮৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে ২৮টি পদ শূন্য। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৮টি পদের মধ্যে দুটি, তৃতীয় শ্রেণির ১৫৭টি পদের মধ্যে ৪৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৩৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যা রোগীর তুলনায় অপ্রতুল। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, সেল কাউন্টার, সাকশন মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট, অটোক্লেভ মেশিন, পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও ফ্রিজের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজির উদ্দিন বলেন, জনবল সংকট নিরসনে প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পদ পূরণ হয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত পূরণের চেষ্টা চলছে। দালালচক্র, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও হাসপাতাল চত্বরে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে নজরদারি করে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের জন্য একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, একটি সেল কাউন্টার, তিনটি ইসিজি মেশিন, চারটি এসি এবং দুটি ফ্রিজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

জনবল সংকট দ্রুত নিরসন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জনবল সংকট ও দালালচক্রে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভোগান্তি

আপডেট সময় :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটের পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। প্রায় আট লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল নানা সংকটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আটরশিয়া গ্রামের জাহিদ হাসান জানান, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা না থাকায় এক নারী তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে এক হাজার টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন রামচন্দ্রপুর এলাকার খালেদা বেগম, সাহাপাড়ার সায়েমা বেগমসহ আরও কয়েকজন রোগী। তাদের দাবি, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি না থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের আশপাশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন ক্লিনিকের হয়ে কাজ করা ১৫ থেকে ১৬ জন নারী-পুরুষ রোগী ধরার কাজে সক্রিয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের মধ্যে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীও রয়েছেন। তারা রোগীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং কমিশনের ভিত্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে উৎসাহিত করেন।

হাসপাতাল চত্বরে বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা অবস্থান করতে দেখা যায়। এছাড়া চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ও ভেতরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। অনেক প্রতিনিধিকে চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র থেকে ওষুধ নেওয়া এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে সীমিতসংখ্যক সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভর্তি রোগীও জানান, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বেশির ভাগ ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৮১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৮৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে ২৮টি পদ শূন্য। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৮টি পদের মধ্যে দুটি, তৃতীয় শ্রেণির ১৫৭টি পদের মধ্যে ৪৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৩৫টি পদের মধ্যে ১৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এছাড়া হাসপাতালে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যা রোগীর তুলনায় অপ্রতুল। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, সেল কাউন্টার, সাকশন মেশিন, ডেন্টাল ইউনিট, অটোক্লেভ মেশিন, পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও ফ্রিজের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজির উদ্দিন বলেন, জনবল সংকট নিরসনে প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পদ পূরণ হয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত পূরণের চেষ্টা চলছে। দালালচক্র, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও হাসপাতাল চত্বরে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে নজরদারি করে আনসার সদস্যদের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের জন্য একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, একটি সেল কাউন্টার, তিনটি ইসিজি মেশিন, চারটি এসি এবং দুটি ফ্রিজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

জনবল সংকট দ্রুত নিরসন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা।