ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন ঠেকাতে চিলমারী রক্ষার দাবি, চরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আহ্বান
- আপডেট সময় : ২৪ বার পড়া হয়েছে
ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) চিলমারী উপজেলার বিশালপাড়া নদীভাঙন এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আবু হানিফা, সদস্যসচিব সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, মহিলা নেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদীভাঙনের শিকার আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলী।
বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভাঙনরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে ভাঙন চলছে। গত ১০ বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে নেই।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের শিকার মানুষ শুধু জমিজমা নয়, তাদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও হারাচ্ছেন। অনেক পরিবার এখনো জানে না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে কিংবা গবাদিপশু ও সন্তানদের কোথায় নিরাপদে রাখবে।
অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তেমন কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
তিনি দাবি করেন, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার দুই কোটির বেশি মানুষ নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, চরের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন টেকসই হবে না।

















