সুবর্ণচরে মৎস্য প্রজেক্ট দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ, মানববন্ধনে বাধার দাবি
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি মৎস্য প্রজেক্ট দখল করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বাধা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চর মজিদ গ্রামের চান্দু মার্কেটসংলগ্ন একটি মৎস্য প্রজেক্টের পাড়ে মানববন্ধনের আয়োজন করা হলে তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে স্থানীয় জোবায়ের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রজেক্টের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল, লিজগ্রহীতা শের আলী, স্থানীয় বাসিন্দা আইযুব আলী কাজল, কামরুল ইসলাম বাবু, সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও আবুল কালাম।
মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি চান্দু মার্কেটসংলগ্ন ২ একর ৫০ শতাংশ জলাশয়ে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ২০০৫ সালে সরকারের কাছ থেকে জমিটির বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। পরে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য প্রজেক্টটি স্থানীয় মৎস্য খামারি শের আলীর কাছে লিজ দেন।
লিজগ্রহীতা শের আলীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্থানীয় নোমান, রুবেল, হেদায়েত, বায়োজিদ, মামুন ও আইয়ুব নামে কয়েকজন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৯ জুন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা জোরপূর্বক প্রজেক্টটি দখল করে নেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে অভিযুক্তরা দফায় দফায় জাল টেনে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছেন বলে তার দাবি।
শের আলীর অভিযোগ, প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, প্রজেক্ট দখলমুক্ত করা এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা সেখানে এসে মানববন্ধনে বাধা দেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনেই হামলার চেষ্টা করেন। এতে কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।
পরে জোবায়ের বাজারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দখল হওয়া প্রজেক্ট উদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব এসআই আশ্রাফুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ছুটিতে থাকায় তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















