ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড: কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত Logo কোস্টগার্ডের মাদক বিরোধী অভিযানে  ৭৫০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ Logo গলাচিপা পৌরসভায় ভাতা ভোগীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে জনমনে ইতিবাচক সাড়া Logo তিন দিন ব্যাপী নাটোর কানাইখালী মাঠে আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু Logo ঝিনাইদহে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ Logo ঝিনাইদহে ছয় লেন সড়ক নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য’র দাবিতে মানববন্ধন Logo হরিণাকুণ্ডুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহায়তার চেক ও ফুটবল বিতরণ Logo ওয়ালটন প্লাজার দেশব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, হটলাইন চালু Logo গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডামুড্যায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo নলুয়াবাগী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ মুজিবুর রহমানের

যেসব চমক দেখা গেল ভারতের নির্বাচনে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ৭১১ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের ফল আসার পর কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, দলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র ও দলের নেতা রাহুল গান্ধী বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছেন। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ছবি: এএনআই

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

এবারের লোকসভা নির্বাচনে চমক দেখা গেলো ভারতে। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এবারের লোকসভা নির্বাচনকে ব্যতিক্রমই বলা চলে। জয় পেয়েও বিজেপি যেন পরাজিত। আর হেরে গিয়েও বিরোধী দল কংগ্রেসের উল্লাস। আসলেই দেশটিতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে চমক দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটেছে।

কংগ্রেসের ফিরে আসা

কোনো সন্দেহ নেই যে কংগ্রেস তার পুরোনো উদ্যম ফিরে পেয়েছে। ইন্ডিয়া জোট গঠন, রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা, দলপ্রধান মল্লিকার্জুন খাগড়ের নেতৃত্ব বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জোরালো প্রচারণা সবকিছুই এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক এ দলটির লাভের হিসাব বাড়িয়েছে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে কখনোই ক্ষমতাসীন দলের এমন সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক ও হয়রানিমূলক প্রচারণার মুখে পড়েনি দলটি। এরপরও তারা ধীরেসুস্থে এগিয়েছে। নিজেদের মর্যাদা ধরে রেখেছে। আর সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে চলেছে।

সমাজবাদী পার্টির সাইকেল

উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নির্বাচনী প্রতীক সাইকেল। থমকে থাকা সাইকেল এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গতি পেয়েছে। নেতা অখিলেশ যাদব শুধু দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব মেটাতেই সফল হননি, বিশাল এ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক জোটও গড়ে তুলেছেন। সত্যিকার অর্থেই উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ ও তাঁর দলের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে কতটা পোক্ত হয়েছেন, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষার মুখে পড়বে। এই সময়টাতে সাইকেলের চাকা কোনোভাবেই ফেঁসে গেলে চলবে না।

বঙ্গে মমতার খেলা হবে

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূর্য যেন কখনোই অস্ত যায় না। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিরোধীদের সামলানোর দক্ষতা, বোঝার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

ইন্ডিয়া জোটের সদস্য হয়েও লোকসভা নির্বাচনে একাই পশ্চিমবঙ্গে নিজের রাজত্ব কায়েম রেখেছেন মমতা। যেসব আসনে তৃণমূল জয় পেয়েছে, তা তাঁর অক্লান্ত প্রচারণা, মানুষের মন পড়ার ক্ষমতা এবং বিরোধীদের বাধা সামলানোর দক্ষতার ফসল। ইন্ডিয়া জোট ও ভারতের জন্য মমতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে।

বিহারে চমক

আলু ছাড়া যেমন শিঙাড়া হয় না, তেমনই নীতীশ কুমার ও তাঁর জনতা দল ইউনাইটেড (জেডি-ইউ) ছাড়া বিহারের রাজনীতি অচল। বিহারের ৯ বারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ আবারও লোকসভা নির্বাচনে নিজের অনন্য দক্ষতার নজির গড়েছেন। ঠিক সময়ে, ঠিক জোটের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। নীতীশ ও তাঁর দলের সদস্যরা আগামী কয়েক দিনে সরকার গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি দেখিয়েছে একজন কৌশলী রাজনীতিককে এত সহজে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। নাইডুর রাজনৈতিক জীবনজুড়ে ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। ২০২৪ সালের এই সময়টা যেন সফলতার চূড়ায় রয়েছেন তিনি। যদিও নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি এখন এনডিএ জোটের সদস্য, তবে কত দিন থাকবে, তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ রয়েছে। সরকার গঠনে নীতীশের মতো তিনিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছেন। সবার চোখ এখন অন্ধ্র প্রদেশের দিকে।

ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই থেকে গেল নয়াদিল্লি। সেখানে জারি থাকল মোদির রাজত্ব। ভবিষ্যতে নয়াদিল্লিতে বিজেপি দুর্গে আঁচড় কাটতে হলে আম আদমি পার্টি (আপ) ও কংগ্রেসকে নতুন করে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে হবে।

চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। কেজরিওয়ালসহ দলটির অনেক নেতা এখন কারাগারে। এরই মধ্যে লোকসভা নির্বাচনে আম আদমির ফল বেশ হতাশাজনক। পাঞ্জাব, নয়াদিল্লি, গুজরাট, আসামসহ যেখানেই তারা প্রার্থী দিয়েছে, বিজেপিবিরোধী কৌশলকে কাজে লাগাতে পারেনি। কেজরিওয়াল, সঞ্জয় সিং, অতিশি সবাই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে বেশ পটু। তারপরও বিজেপি ঝড়ের সামনে তাঁরা যেন রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, রাজস্থানে সহজ জয় পাবে বিজেপি। রাজ্যটিতে কংগ্রেসের সামনে বহু বাধাবিপত্তি ছিল। এত কিছুর পরও সেখানে তুমুল লড়াই করেছে দলটি। বিজেপির ১৫টির বিপরীতে কংগ্রেসের আট আসনে জয় পাওয়াটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ক্ষমতাসীন বিজেপির হাত থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অশোক গেহলট ও নবীন শচীন পাইলটের কাছে রাজস্থান এমন একটি রাজ্য, যেখানে নিজেদের ঘাঁটি আবার গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে তাঁদের। সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যেসব চমক দেখা গেল ভারতের নির্বাচনে

আপডেট সময় :

 

এবারের লোকসভা নির্বাচনে চমক দেখা গেলো ভারতে। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এবারের লোকসভা নির্বাচনকে ব্যতিক্রমই বলা চলে। জয় পেয়েও বিজেপি যেন পরাজিত। আর হেরে গিয়েও বিরোধী দল কংগ্রেসের উল্লাস। আসলেই দেশটিতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে চমক দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা ঘটেছে।

কংগ্রেসের ফিরে আসা

কোনো সন্দেহ নেই যে কংগ্রেস তার পুরোনো উদ্যম ফিরে পেয়েছে। ইন্ডিয়া জোট গঠন, রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা, দলপ্রধান মল্লিকার্জুন খাগড়ের নেতৃত্ব বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জোরালো প্রচারণা সবকিছুই এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক এ দলটির লাভের হিসাব বাড়িয়েছে। আত্মপ্রকাশের পর থেকে কখনোই ক্ষমতাসীন দলের এমন সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক ও হয়রানিমূলক প্রচারণার মুখে পড়েনি দলটি। এরপরও তারা ধীরেসুস্থে এগিয়েছে। নিজেদের মর্যাদা ধরে রেখেছে। আর সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে চলেছে।

সমাজবাদী পার্টির সাইকেল

উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নির্বাচনী প্রতীক সাইকেল। থমকে থাকা সাইকেল এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গতি পেয়েছে। নেতা অখিলেশ যাদব শুধু দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব মেটাতেই সফল হননি, বিশাল এ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক জোটও গড়ে তুলেছেন। সত্যিকার অর্থেই উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ ও তাঁর দলের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে কতটা পোক্ত হয়েছেন, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষার মুখে পড়বে। এই সময়টাতে সাইকেলের চাকা কোনোভাবেই ফেঁসে গেলে চলবে না।

বঙ্গে মমতার খেলা হবে

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূর্য যেন কখনোই অস্ত যায় না। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিরোধীদের সামলানোর দক্ষতা, বোঝার ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই আছে। তিনি নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

ইন্ডিয়া জোটের সদস্য হয়েও লোকসভা নির্বাচনে একাই পশ্চিমবঙ্গে নিজের রাজত্ব কায়েম রেখেছেন মমতা। যেসব আসনে তৃণমূল জয় পেয়েছে, তা তাঁর অক্লান্ত প্রচারণা, মানুষের মন পড়ার ক্ষমতা এবং বিরোধীদের বাধা সামলানোর দক্ষতার ফসল। ইন্ডিয়া জোট ও ভারতের জন্য মমতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে।

বিহারে চমক

আলু ছাড়া যেমন শিঙাড়া হয় না, তেমনই নীতীশ কুমার ও তাঁর জনতা দল ইউনাইটেড (জেডি-ইউ) ছাড়া বিহারের রাজনীতি অচল। বিহারের ৯ বারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ আবারও লোকসভা নির্বাচনে নিজের অনন্য দক্ষতার নজির গড়েছেন। ঠিক সময়ে, ঠিক জোটের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। নীতীশ ও তাঁর দলের সদস্যরা আগামী কয়েক দিনে সরকার গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু পোড় খাওয়া রাজনীতিক। তিনি দেখিয়েছে একজন কৌশলী রাজনীতিককে এত সহজে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় না। নাইডুর রাজনৈতিক জীবনজুড়ে ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। ২০২৪ সালের এই সময়টা যেন সফলতার চূড়ায় রয়েছেন তিনি। যদিও নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি এখন এনডিএ জোটের সদস্য, তবে কত দিন থাকবে, তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ রয়েছে। সরকার গঠনে নীতীশের মতো তিনিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছেন। সবার চোখ এখন অন্ধ্র প্রদেশের দিকে।

ভারতের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই থেকে গেল নয়াদিল্লি। সেখানে জারি থাকল মোদির রাজত্ব। ভবিষ্যতে নয়াদিল্লিতে বিজেপি দুর্গে আঁচড় কাটতে হলে আম আদমি পার্টি (আপ) ও কংগ্রেসকে নতুন করে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে হবে।

চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। কেজরিওয়ালসহ দলটির অনেক নেতা এখন কারাগারে। এরই মধ্যে লোকসভা নির্বাচনে আম আদমির ফল বেশ হতাশাজনক। পাঞ্জাব, নয়াদিল্লি, গুজরাট, আসামসহ যেখানেই তারা প্রার্থী দিয়েছে, বিজেপিবিরোধী কৌশলকে কাজে লাগাতে পারেনি। কেজরিওয়াল, সঞ্জয় সিং, অতিশি সবাই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে বেশ পটু। তারপরও বিজেপি ঝড়ের সামনে তাঁরা যেন রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, রাজস্থানে সহজ জয় পাবে বিজেপি। রাজ্যটিতে কংগ্রেসের সামনে বহু বাধাবিপত্তি ছিল। এত কিছুর পরও সেখানে তুমুল লড়াই করেছে দলটি। বিজেপির ১৫টির বিপরীতে কংগ্রেসের আট আসনে জয় পাওয়াটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ক্ষমতাসীন বিজেপির হাত থেকে আসন ছিনিয়ে নেওয়া সহজ কোনো কাজ নয়। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অশোক গেহলট ও নবীন শচীন পাইলটের কাছে রাজস্থান এমন একটি রাজ্য, যেখানে নিজেদের ঘাঁটি আবার গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে তাঁদের। সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস