গলাচিপায় বাল্যবিবাহের শিকার স্কুলছাত্রীর আকুতি, ‘আমি পড়তে চাই’
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী ১৪ বছর ৫ মাস ১৬ দিন বয়সী ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ভয়ভীতি, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক চাপের মুখে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে। এখন সে সংসার করতে চায় না; পড়াশোনা চালিয়ে স্বাবলম্বী হতে চায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কল্যাণ কলস (খারিজ্জমা) গ্রামের মৃত আব্দুল কাসেম হাওলাদারের মেয়ে মোসাম্মৎ জান্নাতুলের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০১২। কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তার মা বিদেশে চলে যান। এরপর দাদি ফুল বানু তার লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দেশে ফিরে জান্নাতুলের মা রাহিমা খাতুন পাশের বাড়ির নজরুল সিকদারকে বিয়ে করেন। পরে মা, সৎ বাবা ও বড় বোনের সহযোগিতায় ভয়ভীতি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জান্নাতুলকে বিয়েতে রাজি করানো হয়। এ সময় তার সম্মতির একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রকৃত জন্ম নিবন্ধনে জান্নাতুলের বয়স ১৮ বছরের কম হলেও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে জন্মসংক্রান্ত তথ্য গোপন করে তার বয়স ১৮ বছর দেখানো হয়। পরে গত ৭ জুন পটুয়াখালীর জৈনকাঠী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ কাউসারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হলে ৮ জুন জান্নাতুলের দাদি গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও কলাগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বাল্যবিবাহ ঠেকানোর উদ্যোগ নিলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
পরে জান্নাতুলের দাদি ফুল বানু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গলাচিপার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে এবং অভিযুক্তরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জান্নাতুল ও তার দাদিকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলে, “আমি কোথায় যাব? আমার বাবা নেই। আদালতে যদি আমি সুষ্ঠু বিচার না পাই, আমি আত্মহত্যা করব।”
সে আরও বলে, “আমি পড়াশোনা করতে চাই। মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। স্বাবলম্বী হতে চাই। আমার শিক্ষাজীবন যেন আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

















