প্রতিবন্ধী রসুল খান: গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নীরব কান্ডারী
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা। কাঁচা পথের জায়গায় হয়েছে পাকা সড়ক, যোগাযোগ ব্যবস্থায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তবুও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বর্ণি বাওড়ে এখনো সচল রয়েছে খেয়া নৌকার পারাপার। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে শতবর্ষের এই ঐতিহ্য আজও টিকে আছে।
এই খেয়া নৌকার মাঝি বাকপ্রতিবন্ধী মো. রসুল খান। বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈঠা হাতে মানুষের পারাপার নিশ্চিত করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রী পারাপার করেন তিনি। প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ টাকা করে ভাড়া নেন। এতে দৈনিক গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় তার। তবে সপ্তাহে দুই দিন কুশলী হাট বসার কারণে ওই দিনগুলোতে যাত্রী বাড়ে, ফলে আয়ও কিছুটা বেশি হয়।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই বাওড়ে কালাম শেখ, হাশেম ও কায়সারসহ একাধিক মাঝি খেয়া নৌকা চালাতেন। সময়ের পরিক্রমায় সবাই সরে গেলেও বর্তমানে একাই নিয়মিত খেয়া পরিচালনা করছেন রসুল খান। আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তিনি এই দায়িত্ব পালন করায় এলাকার মানুষ নিরাপদে এ পথে যাতায়াত করতে পারছেন।
জানা যায়, মধুমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে একসময় সৃষ্টি হয় বর্ণি বাওড়। সময়ের সঙ্গে এটি শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং বর্ণি ও কুশলী ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের আবাসস্থল এবং মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বাওড়টি স্থানীয় ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার ঘটলেও বর্ণি বাওড়ের খেয়া নৌকার গুরুত্ব কমেনি। অনেকের কাছে এটি শুধু পারাপারের মাধ্যম নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, স্মৃতি ও সংস্কৃতির জীবন্ত প্রতীক।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়েও বর্ণি বাওড়ের শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে খেয়া নৌকা। আর সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন বৈঠা হাতে নেমে পড়েন বাকপ্রতিবন্ধী রসুল খান। তার এই নিরলস পরিশ্রম শুধু জীবিকার সংগ্রাম নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার নীরব প্রয়াস।


















